সাভারের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, জরুরি ফোন করার কথা বলে তার মুঠোফোন নেওয়ার পর একটি স্প্রে ব্যবহার করে তাকে অচেতন করা হয়। পরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে মারধরের পাশাপাশি বিকাশে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত বন্ধুর কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ৪৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রাশিদুল ইসলাম রুশোর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
রুশো জানান, টিউশন করতে যাওয়ার সময় পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় এক ব্যক্তি জরুরি ফোন করার কথা বলে তার কাছে মুঠোফোন চান। তিনি ফোনটি দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি কিছুটা দূরে চলে যান। এ সময় সেখানে থাকা আরও কয়েকজন ওই ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত হন বলে দাবি করেন রুশো।
তার ভাষ্য, এরপর একটি স্প্রে ব্যবহার করে তাকে অচেতন করা হয়। পরে তাঁকে পলাশবাড়ী এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চড়-থাপ্পড়সহ শারীরিকভাবে মারধর করা হয়। এ সময় তার মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও হাতঘড়িও নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রুশো আরও বলেন, পরে তাকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার এক বন্ধুর কাছ থেকে বিকাশে ৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে রুশো বলেন, ‘আমার মুঠোফোনটি ফেরত দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে তারা আমাকে হুমকি দেয়। বলে, বেশি করলে আরেক গ্রুপের কাছে পাঠিয়ে দেবে। তখন আরও ঝামেলায় পড়তে হবে।’
ঘটনার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে পল্লীবিদ্যুৎ ও এর আশপাশের এলাকায় এ ধরনের অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।


