দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজন সন্দেহজনক রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যারা চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। এ সময় নতুন করে ১ হাজার ২৮২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ৬১ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ১ হাজার ১৮২ জন নতুন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫ জন।
বিভাগভিত্তিক আক্রান্তের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৯৩ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হন ও ৪১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭৭ জন সন্দেহজনক আক্রান্তের মধ্যে ২০ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত করা গেছে।
এ ছাড়া সিলেট বিভাগে ১৬৫ জন, বরিশাল বিভাগে ১২২, খুলনা বিভাগে ৯৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪, রাজশাহী বিভাগে ৩৮ এবং রংপুর বিভাগে ২৯ জন নতুন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার নতুন ভর্তির মধ্যে ঢাকায় ৪০৭, চট্টগ্রামে ২৮৬, সিলেটে ১৫৭ ও বরিশালে ১১০ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সমন্বিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০ জন সন্দেহজনক এবং ২০ হাজার ৩৪৩ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬০২ জনে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৪০ জন।
১৫ মার্চ সারা দেশে সন্দেহজনক হামে মোট ৯৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০।
এদিকে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬-এর আওতায় সর্বমোট ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে অর্জিত কাভারেজের হার দাঁড়ায় ১১০ শতাংশে।
পাশাপাশি দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সর্বমোট ২০ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৩ জনকে টিকাদান সম্পন্ন করে ১০৯ দশমিক ১ শতাংশ কাভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।


