চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় মো. মোস্তফা (৬০) নামে আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার বিকাল ৫টার দিকে বাখেরআলী এলাকার আলীমনগর ঘাট থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জহুরপুরটেক গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে পদ্মা নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় মো. ওয়াসিম (২৩) সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অপর ১১ যাত্রী নিখোঁজ হন।
পরে সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৫০ মিনিটে ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের খান্দুয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বিজিবিকে নৌকাডুবির বিষয়টি জানান। তিনি জানান, বিএসএফ ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে।
এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়। রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে ফরিদপুর বিওপি কমান্ডার ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্প কমান্ডারের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের নিকটাত্মীয় মো. ইসমাইল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সবাই সুস্থ রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন–মো. রাসেল (২৬), মো. ইব্রাহিম (৫০), সওদাগর (৪০), মো. ইব্রাহিম (৬০), সখিনা (৪৫), নিলুফা (৩৫), তানিয়া (২২) ও তার ২০ দিন বয়সী শিশু সন্তান, সানাউল্লাহ (৯) এবং আল আমিন (৯)। তাদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের জহুরপুর (বকরীপাড়া) গ্রামে।
এদিকে একই গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের ছেলে মো. মোস্তফা (৬০) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


