কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাবেক স্ত্রীর ভুয়া নগ্ন ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মো. রাসেল রানা (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, এসব ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারী ও তার বর্তমান স্বামীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন তিনি।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সিলেটের মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নাদামপুর বাজারসংলগ্ন একটি পোলট্রি ফার্মের কক্ষ থেকে রাসেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মধুপুর উপজেলার বেরিবাইদ ইউনিয়নের চুনিয়া গ্রামের মো. রুহুল আমিনের ছেলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ও ৮(২) ধারায় মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই রাসেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৫ জুলাই ওই নারীর সঙ্গে রাসেল রানার বিয়ে হয়। দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২৪ সালের ১ মে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর ওই নারী দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর রাসেল রানা তার সাবেক স্ত্রীর বিভিন্ন ছবি সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া নগ্ন ছবি তৈরি করেন। পরে এসব ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারী ও তার বর্তমান স্বামীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২০ জুলাই রাতে তৈরি করা ভুয়া ছবিগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, রাসেল রানাকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. সেলিম সিকদার বলেন, রাসেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি মামলায় আনা অভিযোগ ও অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা। জব্দ করা মোবাইল ফোন ও সিমকার্ডের তথ্য যাচাইসহ তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
মধুপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি অধিকতর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে।
মামলায় রাসেল রানাসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


