বাংলাদেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এখন বিকাশের মাধ্যমে মেটার বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে পারবেন। নতুন এ সুবিধার ফলে ক্রেডিট কার্ড বা বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের সক্ষমতা ছাড়াই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘আগামী: বাংলাদেশ এআই ইনোভেশন ডে’ অনুষ্ঠানে এ সুবিধার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। মেটার অংশীদারত্বে আন্তর্জাতিক কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসল পার্টনার্স এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নতুন ব্যবস্থায় বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধে কোনো অতিরিক্ত চার্জ থাকবে না। বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া অর্থ সরাসরি মেটার বিজ্ঞাপন হিসাবের বিপরীতে পরিশোধ হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বাংলাদেশে মেটার পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রুজান সারওয়ার এবং পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ বক্তব্য দেন।
এতদিন বাংলাদেশে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিতে উদ্যোক্তাদের বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন করা যায় এমন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে হতো। দেশে এ ধরনের কার্ডের সংখ্যা আনুমানিক ৩০ লাখ হওয়ায় অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চাইলেও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের সুবিধা নিতে পারতেন না।
বিকাশের মাধ্যমে নতুন পেমেন্ট সুবিধা চালুর ফলে একটি স্মার্টফোন ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকলেই উদ্যোক্তারা মেটার বিজ্ঞাপন সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।
বিকাশের নিবন্ধিত সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটি ২০ লাখ। আয়োজকেরা বলছেন, দেশের বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী দৈনন্দিন লেনদেনে যে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করেন, এখন সেটিই অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণের একটি নতুন মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র ব্যবসায় ডিজিটাল টুলস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ভূমিকা এবং বিকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধের সুবিধা নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, দেশের ১৪ কোটি মোবাইল ব্যবহারকারীর মধ্যে মাত্র ৫০ শতাংশ বা ৭ কোটি মানুষের কাছে স্মার্টফোন রয়েছে। ফলে এখনো ৭ কোটি মানুষ ডেটা ফোন ছাড়া রয়েছেন।
‘আজকের দিনে বিশ্বের আর কোনো দেশে ৭ কোটি ডেটাবিহীন ফোন নেই। তাই আমি মনে করি, এটি একটি বিশাল সম্ভাবনা,’ তিনি বলেন।
বাংলাদেশে মেটার পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রুজান সারওয়ার বলেন, স্থানীয় পেমেন্ট পদ্ধতি সহজলভ্য হওয়ায় আরও বেশি বাংলাদেশি ক্ষুদ্র ব্যবসা অনলাইনে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘আরও অনেক উদ্যোক্তা এই টুলগুলো ব্যবহার করে তাদের ব্যবসা গড়ে তুলতে এবং সম্প্রসারিত করতে পারবে। অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিনিধি, শিল্প খাতের কর্মকর্তা এবং ক্ষুদ্র ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাসহ প্রায় ১৫০ জন অংশ নেন।


