দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবায়নযোগ্য সৌর শক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধায় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২০তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নবায়নযোগ্য সৌর শক্তি উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ হতে ১৮০ দিন পর্যন্ত অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ঘাটতির ফলে জনজীবনে সৃষ্ট ভোগান্তি হ্রাস পাবে, শিল্প উৎপাদন অব্যাহত থাকবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাওয়াসহ যন্ত্রপাতির ক্ষতি কম হবে, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে।
অন্যদিকে, নিম্নস্তরের সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য এবং রাজস্ব ঘাটতি কমাতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর আওতায় নিম্নস্তরের সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য (প্রতি দশ শলাকা) ‘৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব’-এর স্থলে ‘৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ পুনঃনির্ধারণ করে সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশ ও হংকং-এর মধ্যে ‘ ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হংকং বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও উন্মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল। বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হংকংয়ের অবস্থান ৬ষ্ঠ। বাংলাদেশের পোশাক, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছেন।
‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ উভয়পক্ষের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, যা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষের বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এতে আরও বলা হয়, চুক্তিটি বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চুক্তির মেয়াদ দশ বছর। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের ৩ বছর পর উভয়পক্ষ চুক্তি সংশোধন করতে পারবে, এ সংক্রান্ত বিধান খসড়া চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে উভয়পক্ষের মধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


