জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে বিদ্যমান চুক্তিগুলোকে কার্যকর পদ্ধতিতে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন নেপাল, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা। তারা এজন্য সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
রোববার ভুটানের থিম্পুতে ৬ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া পরিবেশ, জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক দুদিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় সংসদীয় সংলাপে এই আহ্বান জানানো হয়।
সাউথ এশিয়া রিজিয়নাল পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর ক্লাইমেট, এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (এসএআরপিএফ) ও ভুটানের জাতীয় সংসদ এই সংলাপ আয়োজন করে। এতে সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সম্প্রতি নেপালে হিমবাহ সংক্রান্ত ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর এই প্রস্তাবগুলো সামনে এলো। সর্বশেষ তথ্যানুসারে, ওই ঘটনায় অন্তত ১,৩৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫,০০০ জন। এই বিপর্যয় সমগ্র অঞ্চলে জলবায়ু ঝুঁকির ভয়াবহ মাত্রা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসএআরপিএফ জানায়, সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা দক্ষিণ এশিয়া জলবায়ু সহযোগিতা পরিষদ (এসএসিসিসি) গঠনসহ আঞ্চলিক জলবায়ু ও জ্বালানি সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করতে রাজি হয়েছেন।
প্রস্তাবিত এই পরিষদটির মূল লক্ষ্য হবে জলবায়ু, জ্বালানি ও পরিবেশের ওপর রাজনৈতিক মনোযোগ ধরে রাখা। পাশাপাশি সার্ক, বিমসটেক, বিবিআইএন কিংবা সাসেপ-এর কাজের পুনরাবৃত্তি না করে বিদ্যমান উদ্যোগগুলোকে বাস্তবায়নের সাথে সংযুক্ত করা।
অঞ্চলের জ্বালানি সম্পদের পরস্পরের পরিপূরক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে অংশগ্রহণকারীরা একটি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড গঠনের উদ্যোগকেও সমর্থন জানান। নেপালের আনুমানিক ৪২ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ভুটানের ৩০ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভাব্য জলবিদ্যুৎ ক্ষমতা রয়েছে, যার মাত্র ১২ শতাংশ এখন পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। বিপরীতে ভারতের ২ লাখ ৫৩ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি স্থাপিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষমতা রয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল আঞ্চলিক দুর্যোগ প্রস্তুতি ও তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর আওতায় যৌথ প্রারম্ভিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, হিমালয় অববাহিকায় হিমবাহের হ্রদ ও বন্যা পর্যবেক্ষণ এবং সীমান্ত পেরিয়ে জলবায়ু ঝুঁকির তথ্য বিনিময় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, যেসব দেশ একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ব্যবস্থার অংশীদার, দুর্যোগের সময় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কবারস্থার ক্ষেত্রে তাদের আরও জোরালো সহযোগিতা প্রয়োজন।
এসএআরপিএফ-এর সহ-পরিচালক অধ্যাপক মুকুল শর্মা, সুমেধা বসু এবং ইউএনওপিএস-এর প্রধান জলবায়ু কর্মকর্তা সামান্থা স্ট্র্যাটন-শর্ট আন্তঃসীমান্ত প্রারম্ভিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং জলবায়ু ঝুঁকির তথ্য বিনিময়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
সংসদ সদস্যরা এসএআরপিএফ-কে এসএসিসিসি-এর একটি সম্ভাব্য খসড়া তৈরির জন্য কাজ করার এবং সার্ক, বিমসটেক, বিবিআইএন, সাসেপ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের মতো জাতীয়, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক যোগাযোগের মাধ্যমে অন্যান্য প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংলাপে অংশগ্রহনকালদের মধ্যে ছিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী লিয়নপো সোনাম তাশি, কৃষি ও পশুপালন মন্ত্রী ইয়ুনতেন ফুন্টশো এবং পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার সাঙ্গে খাণ্ডু।
এসএআরপিএফ-এর চেয়ারপারসন ও ভারতের লোকসভার সদস্য সঞ্জয় জয়সোয়াল এবং সংগঠনের সহ-পরিচালক শর্মা ও বসু সংলাপে সভাপতিত্ব করেন।
উল্লেখ্য, এসএআরপিএফ হলো বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্য ও আইনপ্রণেতাদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। জলবায়ু, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ে আঞ্চলিক সংসদীয় সহযোগিতা এবং নীতিগত আলোচনা প্রচারের লক্ষ্যে এটি প্রতিষ্ঠা হয়।


