কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখলে, গোপন কোনো স্থানে আটকে রাখলে অথবা আইনের সুরক্ষা ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত করলে সেটিকে ‘গুম’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। ওই আইনে গুমের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাতে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করার পর তার অবস্থান বা নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গোপন রাখলে, তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখলে অথবা আইনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করলে তা স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এখন থেকে যদি কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২৪ ঘণ্টার বেশি কাউকে আটক রাখে, কোথাও তাকে গোপন স্থানে রাখা হয় কিংবা তাকে যদি আইনের সুবিধা লাভে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে কিন্তু সে অপরাধটাকে গুম বলে গণ্য করা হবে, বলেন মো. আমিনুল ইসলাম।
তবে আইনে গুমের এমন ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য একটি আলাদা শর্ত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য, গুম ব্যাপক মাত্রায় সংঘটিত হলে অথবা একই ধরনের কোনো প্যাটার্ন বা পদ্ধতিতে তা সংঘটিত হলে সেটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হবে।
নতুন আইনকে স্বাগত জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর জন্য বিচারের একটি নতুন পথ খুলেছে। একই সঙ্গে এই আইন বিচারের পরিধি বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের কোনো সংঘাতের সুযোগ নেই। একইভাবে গুমের সংজ্ঞা যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে দেশের অন্যান্য আইনের সঙ্গেও কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলে তিনি মনে করেন।
অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে আইনটি করা হয়েছে, বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তার মতে, আইনটির প্রয়োগের মাধ্যমে গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।


