নলছিটি-মোল্লারহাট সড়ক: ২২ বছর বাস বন্ধ, দুর্ভোগে দেড় লাখ মানুষ

বেহাল সড়ক ও অনিয়মিত ফেরির কারণে দুই যুগ ধরে ঝালকাঠির সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে নলছিটির।

নলছিটি-মোল্লারহাট সড়ক: ২২ বছর বাস বন্ধ, দুর্ভোগে দেড় লাখ মানুষ
সড়কের বেহাল দশায় দুর্ভোগ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঝালকাঠির নলছিটি-মোল্লারহাট সড়কের বেহাল দশা ও সুগন্ধা নদীতে অনিয়মিত ফেরি চলাচলের কারণে জেলা সদরের সঙ্গে ২২ বছর ধরে সরাসরি বাস সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। সড়ক ও নদীর দুরবস্থায় বিকল্প যানবাহনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করছেন উপজেলার দেড় লক্ষাধিক বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঝালকাঠি-নলছিটি-মোল্লারহাট সড়ক পাকা করে নলছিটি-ষাইটপাকিয়া পয়েন্টে ফেরি চালু করে। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নলছিটি ফেরিঘাট থেকে মোল্লারহাট পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় ২০০৪ সালে ঝালকাঠি লাইনের বাস চলাচল বন্ধ হয়। এ ছাড়া একই কারণে বরিশাল মালিক সমিতির বাস সার্ভিসটিও মোল্লারহাট পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে প্রায় ১০ বছর ধরে।

বর্তমানে সুগন্ধা নদীতে ফেরি চলাচল সার্বক্ষণিক না থাকায় পারাপারে ট্রলার ও নৌকাই স্থানীয়দের প্রধান ভরসা। মাঝে-মধ্যে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা পুলিশের গাড়ি এলে ফেরি চালানো হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি পার করতে চাইলে জ্বালানি খরচ বাবদ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হয়।

নলছিটি শহরের ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যখন নিয়মিত ফেরি চলাচল করত তখন দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা নলছিটি থেকে ঝালকাঠি যেতে পারতাম। এখন ট্রলারে ১৮ জন লোকের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ১৮ জন লোক না হলে ট্রলার ছাড়ে না।’

মগর ইউনিয়নের কাঠিপাড়া গ্রামের আল আমীন ফকির জানান, বাস না থাকা ও ফেরি অনিয়মিত হওয়ায় যাতায়াতে মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

আরও পড়ুন

তালতলা বাজার এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু প্রতিহিংসামূলকভাবে সড়কটির উন্নয়ন না করে ফেলে রেখেছেন। এ ছাড়া গর্ত, কাঁদা এবং রাস্তার পাশের খাল ও মাছের ঘেরের কারণে সড়কটি ভেঙে সরু হয়ে গেছে।

শিমুলতলা এলাকার শাহনাজ বেগম, হাছিনা বেগম ও শাহিদা আক্তার জানান, খারাপ রাস্তার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে এবং গর্ভবতী নারীদের নিয়ে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মোল্লারহাট জুলফিকার আলি ভূট্টো ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী আয়শা আক্তারসহ অন্য শিক্ষার্থীরা জানান, ভাঙা রাস্তার কারণে গাড়ি কম চলে এবং ভাড়া বেশি নেওয়া হয়। তারা দ্রুত রাস্তাটি পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্ত করার দাবি জানান।

ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মজিবুর রহমান জানান, নলছিটি-মোল্লারহাট সড়ক হয়ে বাকেরগঞ্জের মহেশপুর পর্যন্ত নতুন করে নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর