মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ছড়িয়ে পড়লে খামারিরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এলএসডি ভ্যাকসিন রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে গবাদিপশু সুরক্ষিত হবে, কমবে খামারির ব্যয়।
শুক্রবার কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রাইচু ঈদগাঁহ মাঠে বিএলআরআই উদ্ভাবিত এলএসডি ও গোটপক্স ভ্যাকসিনের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিন প্রয়োজন। এতদিন বিদেশি ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন দেশে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, গবাদিপশুকে সুস্থ রাখতে নির্ধারিত সময়ে টিকা দিতে হবে। একটি খামারে রোগ দেখা দিলে দ্রুত অন্য পশুতেও ছড়াতে পারে। তাই প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে।
খাদ্য ব্যয় কমাতে বিএলআরআই উদ্ভাবিত উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন ঘাস চাষের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন জাতের ঘাসে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। এটি চাষ করলে কম খরচে উন্নত পশুখাদ্য উৎপাদন করা যাবে। দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরতাও কমবে।
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের ছাগল সরবরাহ ও বিপণন সহায়তা দেওয়া হবে। নারী ও যুব উদ্যোক্তারা অগ্রাধিকার পাবেন।
তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস ও চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। পরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাত গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বাড়াতে পারে।
বিএলআরআই মহাপরিচালক শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিএলআরআইয়ের কর্মকর্তারা, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা এবং খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাম্পেইনের আওতায় আদর্শ সদর উপজেলার গবাদিপশুর জন্য ২ হাজার ডোজ এলএসডি ও ১০০ ডোজ গোটপক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে।


