রাজধানীর মিরপুরে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ট্রাভেল এজেন্সির মালিকের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পাঁচ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন সোহানা (৩৫), সুমন (৪০) ও ছাব্বির আহম্মেদ (৩৫)। এ ঘটনায় জড়িত আইনের সঙ্গে সংঘাতে থাকা এক শিশুকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ডিএমপি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়।
বুধবার রাত আড়াইটার দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন আহম্মেদনগর এলাকার নিজ নিজ বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার বাদী একজন ট্রাভেল এজেন্সির মালিক। কয়েক মাস আগে সোহানা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, তিনি ও তার মা ওমরাহ পালনে যাবেন। এ সূত্রে পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার কথা বলে গত ৩১ আগস্ট বাদীকে আহম্মেদনগরের একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে সোহানা কৌশলে বাদীকে একটি শয়নকক্ষে নিয়ে যান। পরে অন্য অভিযুক্তরা ওই কক্ষে প্রবেশ করে বাদীকে মারধর এবং তার সঙ্গে সোহানার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর এসব ছবি ও ভিডিও পরিবারের সদস্যদের দেখানোর ভয় দেখিয়ে বাদীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বাদীর কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ২ লাখ ১০ হাজার টাকা আদায় করেন। সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময় সোহানার কাছ থেকে নগদ ২১ হাজার ৫০০ টাকা ও আইএফআইসি ব্যাংকের দুটি হিসাবের ডিপোজিট স্লিপ উদ্ধার করা হয়। ছাব্বির আহম্মেদের কাছ থেকে একটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোন ও একটি আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স এবং আইনের সঙ্গে সংঘাতে থাকা শিশুটির কাছ থেকে একটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানা সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।


