দুর্নীতির মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের পাবনায় থাকা ২৪টি জমি ও দুটি গাড়ি জব্দের আদেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। একই সঙ্গে তার নামে থাকা ১৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহার করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেয়।
আবেদন থেকে জানা যায়, জব্দের আদেশ দেওয়া জমিগুলোর মূল্য ২ কোটি টাকার বেশি দেখানো হয়েছে। তবে আবেদনে গাড়ি দুটির মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।
আবেদনে বলা হয়, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন ও দখলে রাখেন।
এতে বলা হয়, তিনি নিজের নামে থাকা ৩৬টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২১২ কোটি ৬৭ লাখ ৭২ হাজার ১০০ টাকা জমা এবং ২১২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এসব হিসাবে মোট ৪২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
দুদক অভিযোগ করেছে, এসব লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে অর্থ বা সম্পত্তি রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রিন্স মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত অপরাধ করেছেন। এসব অর্থ দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে দুদক উল্লেখ করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার নামে থাকা বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর বা অন্যভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন। এ কারণে সম্পদগুলো জব্দ ও ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আবেদন করা হয়।
দুদক আরও বলেছে, মামলার নিষ্পত্তির আগে এসব সম্পত্তি হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেওয়া হলে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।


