চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন নির্মাণের ৭৫ কোটি টাকার কাজ পেতে দরপত্রে জালিয়াতির অভিযোগে যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দরপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে এ মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।’
আদালত সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ একাডেমিক ভবন তথা দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পেতে শামীমের প্রতিষ্ঠান দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স-জিকেবিএল (জেভি) দরপত্রে অংশ নেয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৭৫ কোটি টাকা।
দুদকের মামলায় অভিযোগ করা হয়, কাজটি পেতে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। দরপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া বিভিন্ন কাগজপত্রে কোম্পানির তথ্য পরিবর্তন, অভিজ্ঞতার সনদে অসঙ্গতি এবং আর্থিক সক্ষমতা-সংক্রান্ত তথ্য জালিয়াতি করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, কোম্পানির প্রকৃত নিবন্ধিত নামের সঙ্গে একটি একক মালিকানাধীন ফার্মের নাম যুক্ত করে রেজিস্ট্রেশন দেখানো হয়। একই সঙ্গে কোম্পানির নিবন্ধিত শেয়ারের চেয়েও বেশি সংখ্যক শেয়ার দেখিয়ে দরপত্র জমা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দরপত্রের শর্ত পূরণ দেখাতে ১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা, গত পাঁচ বছরে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার সনদ এবং অতীতের ব্যবসায়িক টার্নওভারের তথ্যের ক্ষেত্রেও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ পেয়ে যায় দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স-জিকেবিএল (জেভি)।
তবে দরপত্রে দেওয়া তথ্য নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি তদন্তে নামে দুদক। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে পাঠানো হয়। যাচাই শেষে সেখানে কোম্পানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যের জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
এরপর দীর্ঘ তদন্ত শেষে শামীমের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। এর আগে ২০২১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ২০২৩ সালে তিনি এ মামলায় জামিন পান।
২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় আলোচনায় আসেন শামীম। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
অভিযানে তার কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ উদ্ধার করা হয়। শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় তার সাজা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ কোটি টাকার নির্মাণকাজের দরপত্রে জালিয়াতির অভিযোগের মামলায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রমও শুরু হলো। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটির পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।


