নেপাল-চীন সীমান্তের হিমালয় এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর শুক্রবারও উদ্ধার অভিযান চলেছে। উদ্ধারকারীরা কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কাজ করছেন। এর মধ্যেই নতুন তৈরি একটি হ্রদ উপচে পড়ে আরও বড় বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী, উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বলেন, উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি বন্ধ হয়নি, অভিযান চলছে।’
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রকাশিত উপগ্রহচিত্রে নতুন তৈরি হ্রদটির অবস্থান চিহ্নিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার হিমবাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাস্থলের কাছেই হ্রদটি তৈরি হয়েছে। ওই ঘটনা থেকে ধারাবাহিক বিপর্যয় শুরু হয়। এতে নিচের দিকে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপগ্রহচিত্র ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নদীর প্রবাহ উজানে বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে বড় একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে হ্রদের পানি আকস্মিকভাবে নেমে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
সিসিটিভির শুক্রবার সকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ নেপালের সঙ্গে সীমান্ত সংযোগকারী গিরং বন্দর থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে। সীমান্তের ওই এলাকা কাদা ও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
চীনা সম্প্রচারমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৯৫০ মিটার উচ্চতায়। এটি গিরং বন্দরের চেয়ে প্রায় ১ হাজার মিটার উঁচুতে।
হিমালয় অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী জলবায়ু বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বুধবারের হিমবাহ ধসের ফলে এলাকায় কয়েকটি ছোট জলাধার তৈরি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ এখনো বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে।
কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তর্জাতিক সমন্বিত পার্বত্য উন্নয়ন কেন্দ্রের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান ছিয়াংগং ঝাং বলেন, ‘২৬ আগস্টের বরফ ও পাথরের ধসের কারণে আরেকটি বাঁধবদ্ধ হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে পানি বের হতে শুরু করেছে।’
তিনি জানান, হ্রদটিতে কয়েক মিলিয়ন ঘনমিটার পানি জমেছে। এটি এমন একটি উপত্যকায় অবস্থিত, যেখানে নিচের দিকে উচ্চতার পার্থক্য খুব বেশি নয়।
হ্রদের পানির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের সমান।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে ইতোমধ্যে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি। পরিস্থিতি সামলে অঞ্চলটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ঢাকাভিত্তিক জলবায়ু গবেষক ও অস্ট্রিয়ার গ্রাৎস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানী ইয়াকব স্টেইনার বলেন, ‘উচ্চ তাপমাত্রার কারণে এখনো প্রচুর হিমবাহ গলছে। নদীর পথে প্রচুর ধ্বংসাবশেষ ও পাথর জমে থাকায় বিভিন্ন স্থানে পানি আটকে জমা হচ্ছে।’
ঝাং ও স্টেইনার দুজনই সতর্কতাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে অনেক উদ্ধারকর্মী জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন।
তবে তাদের মতে, বুধবারের মতো এতটা ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যা আবার হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।


