রংপুরে একই পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় সামনে এসেছে নতুন তথ্য। হত্যাকাণ্ডের আগে থেকে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত একে অপরের সঙ্গে অন্তত ৮০ বার কথা বলেছেন মামলার দুই মূল অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ২০ আগস্ট দুপুর থেকে তারা গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত দুজনের মধ্যে দফায় দফায় যোগাযোগ হয়। মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে বিষয়টি সামনে এসেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ২০ আগস্ট দুপুর থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মধ্যে প্রায় ৮০ বার কথোপকথন হয়েছে। এসব কথোপকথনের সময়, স্থান ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েল, তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের আগে, ঘটনার সময় এবং পরে দুই অভিযুক্তের গতিবিধি ও পারস্পরিক যোগাযোগ তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, দুই অভিযুক্তের ৮০ বার যোগাযোগ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ঘটনার পর তাদের কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অন্য কোনো বিষয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মরদেহ বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় ওই দুই তরুণ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে এবং পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করে।


