বিএনপিকে উদ্দেশ করে পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে সদস্য হয়ে ২০ কোটি টাকা লুটপাট করবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচিত এমপির চেয়ে অনির্বাচিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বেশি। এখানে বিএনপির দলীয় জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এখানে এতই লুটপাটের জায়গা যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান না হয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হতে চায়। পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে সদস্য হলে বিশ কোটি টাকা লুটপাট করবে।’
বুধবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় সারজিস এসব কথা বলেন।
পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন নিয়ে বিএনপির একটা অংশের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোরামবাজির কারণে স্থান না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রতি বছর বিশাল বরাদ্দ আসলেও কোনো ভালো স্বাস্থ্যসেবা ও স্কুল-কলেজ নেই। অবিলম্বে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সারজিস আরও বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছে যে পদ্ধতিতে নিপীড়িত ও জুলুমের শিকার হয়েছে, বর্তমানে তারা সেই পদ্ধতি অবলম্বন করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে দৃশ্যগুলো ধীরে ধীরে দেখা গেছে, বিএনপি সরকারের ক্ষেত্রে তা ছয় মাসের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিভিন্ন সেক্টরে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে রাখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকায় যারা এনসিপি করে তাদের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে। অতীতে যারা এই চর্চা করেছে তাদের কী অবস্থা হয়েছে তা দেশের মানুষ জানে। ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠনগুলোকে যার যার রাজনীতি করতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ বেছে নেবে কোন দল করবে।
সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারজিস বলেন, জামায়াতের সঙ্গে এগারদলীয় নির্বাচনী জোটে এনসিপি রয়েছে এবং এ জোট ভাঙার কোনো সম্ভাবনা নেই। একটি ফ্যাসিবাদী গ্রুপ জামায়াত-এনসিপি জোটকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে আসা তো দূরের কথা, শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।
এনসিপি রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সদস্য সচিব মো. শোয়েবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সরোয়ার তুষার, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিন সুজা, রাঙ্গামাটি জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন চৌধুরী, প্রিয় চাকমা, শহিদুল ইসলাম, জুরাছড়ি উপজেলার আহ্বায়ক মিশন চাকমা, লংগদু উপজেলার সদস্য সচিব এরিক চাকমা ও শ্রমিক শক্তির সংগঠক আমির উদ্দিন।
সরোয়ার তুষার বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে দেশে ফ্যাসিবাদী কাজ চলে আসছে। সবাইকে ‘বাঙালি’ বানিয়ে দেওয়ার নীতি এনসিপি সমর্থন করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার জাতিসত্তা ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে হবে। তারা সবাই বাংলাদেশি হলেও নিজ নিজ আত্মপরিচয়ের ইতিহাস ভুলে যাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশে বহু জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষের স্ব স্ব জাতির স্বীকৃতি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রামে কিছু এনজিও ‘আদিবাসী’ বিতর্কে গিয়ে বিভাজন সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তুষার। বিএনপি সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে দাবি করে তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকায় বিভাজন তৈরি করতে স্থানীয় এমপিকে অসুস্থতার অজুহাতে সরিয়ে বাইরে থেকে এমপি এনে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান মন্ত্রীকেও নিজের মতো ব্যবহার করা হবে দাবি করে তুষার পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালকে প্রভাবশালী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ে থাকলে কেউ কাজ করে শান্তি পাবে না। এনসিপি ক্ষমতায় গেলে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে তিনজন–মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সভায় এনসিপির নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ে দলের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করেন।


