ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে এক শিক্ষককে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার পর থানায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে জরুরি চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে বড় বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক শাহ আলম ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়রা বলেন, স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলে গত সোমবার স্কুল কমিটির এক সদস্য প্রধান শিক্ষককে মোবাইল ফোনে জানায়। পরে প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন। ওই সময়, প্রধান শিক্ষককে ওই ছাত্রীর মা জানায়, স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহ আলম গত দুই সপ্তাহ ধরে তার মেয়েকে দুপুরে খাওয়ার জন্য ১০ টাকা করে দেন। সোমবার শিক্ষক শাহ আলম নিজের হাতে ‘ওয়াশরুমে যাও’ লিখে ওই ছাত্রীকে দেখায়। লেখাটি দেখে ওই ছাত্রী বাড়িতে চলে যায়। পরে সে তার মা-বাবাকে জানায়, শিক্ষক শাহ আলম তাকে নানাভাবে হয়রানি করে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি ওই ছাত্রীর মা-বাবার সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে এ ঘটনায় যথাযথ বিচারের আশ্বাস দিয়ে স্কুলে আসি। অফিসে প্রবেশ করার দু-চার মিনিটের মধ্যেই ওই ছাত্রীর চাচা সৌরভ সরকার, বাবু সহ ১০/১২ জন বহিরাগত লোকজন সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে বেধড়ক মারধর করে। এসময় আমরা শিক্ষক শাহ আলমকে উদ্ধার করে বহিরাগতদের স্কুলের অফিস থেকে বাইরে বের করে দেই। পরে হামলাকারীরা স্কুলের সামনে অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় হামলার চেষ্টা চালায়।’
সহকারী শিক্ষক শাহ আলমের নামে এরকম কোনো অভিযোগ আগে শোনেননি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি পিটিআই ট্রেনিং শেষ করে তিন মাস হলো স্কুলে যোগদান করেছেন। কোনো শিক্ষার্থী এর আগে এ ধরনের অভিযোগ করেনি। শিক্ষকের নামে এরকম অভিযোগ আমাদের সবাইকে হতবাক করেছে।’
এ ঘটনায় ভিকটিম শিশুর চাচা ও শিক্ষকের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেয়া সৌরভ সরকার বলেন, ‘ওই শিক্ষক আমার ভাতিজির গায়ে হাত দিয়েছে বলে আমার ভাবির কাছে শুনেছি। পরদিন সকালে আমরা স্কুলে যাই। পরে স্থানীয় জনগণ ওই শিক্ষককে মারধর করে।’
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলম বলেন, ‘আমি স্কুলে এসে হঠাৎ শুনি আমি নাকি এরকম একটি কাজ করেছি। পরে প্রধান শিক্ষক স্যার ওই ছাত্রীর বাড়িতে যান বিস্তারিত জানার জন্য। প্রধান শিক্ষক স্কুলে ফিরে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই ১০/১২ জন আমাকে বেধড়ক মারধর করে। আমি একজন শিক্ষক, আমি কিভাবে আমার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করব, এটাই আমি ভেবে পাচ্ছি না। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। কেউ আমার বিরুদ্ধে এধরনের অভিযোগ করবে আমি ভাবতেও পারি না।’
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসনে বলেন, ‘স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে স্কুলে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা তাকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসি। এরপরই ওই শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ইসিজি করানো হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
এ ঘটনায় কালীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগটি আমরা তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছি।’


