রাসায়নিক দুর্ঘটনাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামে নৌবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বানৌজা ঈসা খানে নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
সিচুয়েশন্যাল ট্রেনিং এক্সারসাইজ (এসটিএক্স) নামে আয়োজিত এ মহড়ায় আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৪১ জন এবং নৌবাহিনীর ৪৫৫ জন সদস্য অংশ নেন।
মহড়ায় রাসায়নিক দুর্ঘটনার পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিভিন্ন কার্যক্রম অনুশীলন করা হয়। এর মধ্যে ছিল দুর্ঘটনাস্থল নিরাপদ করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ, রাসায়নিক পদার্থের বিস্তার রোধ, আক্রান্ত ও বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া।
এ ছাড়া, রাসায়নিক দুর্ঘটনা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হলে তা নিয়ন্ত্রণ ও অগ্নিনির্বাপণের কৌশলও মহড়ায় অনুশীলন করা হয়। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মহড়ায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা পারস্পরিক যোগাযোগ, দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত রাসায়নিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলন করেন। এর মাধ্যমে নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি) বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত বেসিক অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড প্রোটেকশন কোর্স ফর রেসপন্ডারস (বিএপিসিওআর) প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় এ ধরনের যৌথ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর, জাহাজ, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় রাসায়নিক দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। এসব স্থানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার, আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনার সময় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে প্রাণহানি, সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এ ধরনের মহড়া ভূমিকা রাখবে।


