যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জনস্বার্থবিরোধী বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, পোলট্রি ও ওষুধসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা পালন করছে না।
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধান, রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা, বিদ্যুৎ বিতরণ ও জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণ বন্ধ, ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ কার্যকর ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিলসহ ছয় দফা দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশস্থলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জনস্বার্থবিরোধী বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, পোলট্রি ও ওষুধসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তিনি ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন।
সমাবেশে উন্নয়ন অর্থনীতি গবেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহা মির্জা বলেন, ‘বাপেক্স দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, দেশের স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সক্ষমতা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে। ২০১৫-১৬ সালে বাপেক্স ২০২১ সালের মধ্যে ১০৮টি গ্যাসকূপ খননের একটি মাস্টারপ্ল্যান দিয়েছিল। এটি বাস্তবায়িত হলে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারত।’
তিনি বলেন, ‘বাপেক্সকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে বিভিন্ন সময়ে বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। বাপেক্স তুলনামূলক কম খরচে কূপ খনন করতে পারে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় অনেক বেশি।’
মাহা মির্জা আরও বলেন, ‘বাপেক্সের অনুসন্ধান সাফল্যের হার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও উল্লেখযোগ্য। প্রয়োজনীয় বাজেট ও সুযোগ দিলে বাপেক্স নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’
সমাবেশে চিকিৎসক হারুন উর রশীদ বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০টি জেনেরিক ওষুধ রয়েছে। তবে ১৯৯৪ সালের আদেশের কারণে সরকার মাত্র ১১৭টি ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বাকি ওষুধের দাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো নির্ধারণ করছে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, ‘গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে জ্বালানি বাজারের বড় অংশ চলে গেলে মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা কমে যেতে পারে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।


