জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি খলনায়ক ডনকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এসএস ইমিগ্রেশন জানিয়েছেন, স্টপ লিস্টে নাম থাকায় রোববার ভোররাতে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
টাইমস অব বাংলাদেশকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন ইমিগ্রেশন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা।
জানা গেছে, ডন ভ্রমণ ভিসায় বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার জানিয়েছেন, সৌদি আরবে যাওয়ার উদ্দেশে তিনি বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন।
পরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ডনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমনা থানার ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবরের ১৮ নম্বর মামলায় চার নম্বর আসামি আশরাফুল হক ডন (৫৪)।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ডনকে আটক করে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে পুলিশের প্রতিবেদনে।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় আসামিদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় গেল বছরের ২৩ অক্টোবর। এ বিষয়ে রমনা থানা পুলিশ চিঠি দেয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে।
এ ছাড়া ২০ অক্টোবর সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের নির্দেশ দেয় আদালত। মহানগর দায়রা জজ আদালতের দেওয়া নির্দেশের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শুরু হয় তদন্ত।
তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, পুনঃতদন্তে নতুন তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের কাজ চলছে।
সালমান শাহ হত্যা মামলায় সর্বমোট ১১ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি নায়কের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক।
মামলায় অন্য ১০ আসামি হলেন- প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রিজভী আহমেদ ফরহাদ।


