ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) শহীদ জিয়া শিশু পার্কের প্রায় ৪২০ কোটি টাকার রাইড সরবরাহ ও স্থাপন প্রকল্পের বিতর্কিত টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডিএসসিসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ডিএসসিসিকে ওই নির্দেশ দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান।
তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শিশু পার্ক নির্মাণকাজের টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল আগামী ১৫ জুলাই। টেন্ডারে বিশেষ শর্ত আরোপ করে প্রতিযোগিতা সীমিত করা এবং আওয়ামী লীগ আমলে সুবিধাভোগী ওরিয়ন, ইউসিসি এবং ইউডিই নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে টাইমস অব বাংলাদেশ।
গত ৬ জুলাই ‘দুর্নীতির তদন্তের মুখে ডিএসসিসির প্রকৌশলীকে প্রতিমন্ত্রীর বগুড়ায় বদলি’ শিরোনামে ওই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। যাতে বলা হয়, শহীদ জিয়া শিশু পার্কের প্রায় ৪২০ কোটি টাকার প্রকল্পের টেন্ডারে ১৫টি রাইডকে একটি মাত্র প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ২২০ কোটি টাকার সমজাতীয় কাজের অভিজ্ঞতা, ৪৪০ কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার এবং ৩৫২ কোটি টাকার লিকুইড অ্যাসেটের মতো কঠোর শর্ত থাকায় অধিকাংশ ঠিকাদার কার্যত প্রতিযোগিতার বাইরে পড়ে যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, বিতর্কিত টেন্ডারের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আনিসুর রহমানকে বগুড়া সিটি করপোরেশনে বদলি করা হলেও তিনি তা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। অবশ্য প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পর তিনি রিলিজ নেন।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের গঠিত কমিটিও তদন্ত করছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রবিউল ইসলাম ওই তদন্ত কমিটির প্রধান।
তিনি টাইমসকে বলেন, ‘আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দেব।’
এদিকে, রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে একাধিক ঠিকাদার টেন্ডারের আগের শর্ত বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনে ১৫টি রাইডকে প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ৫ থেকে ৮টি পৃথক লটে ভাগ করা এবং যোগ্যতার শর্ত পুনর্নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। প্রি-টেন্ডার সভায়ও একই প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে তারা আবেদন উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পটিকে একাধিক লটে ভাগ করে প্রতিযোগিতাবান্ধব শর্তে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হলে অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে পারবে। তাতে সরকারের ব্যয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রাইড সংগ্রহ নিশ্চিত হবে।
তাদের মতে, শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলি করলেই হবে না, যে বিতর্কিত শর্তকে কেন্দ্র করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিসুর রহমানকে সরানো হয়েছে, সেই শর্তগুলোও সংশোধন বা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।


