উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙনে বিপাকে পড়েছেন গাইবান্ধার হাজারো মানুষ। পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে জেলার পাঁচটি উপজেলায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। অন্তত ৬০টি পয়েন্টে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ঘরবাড়ি হারানো মানুষের অভিযোগ, প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান নয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি বাড়লেও ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটের পানি কিছুটা কমেছে। চলমান মৌসুমে কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির প্রভাবে জেলায় প্রায় ৯০০ বিঘা জমির ফসল পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলাতেই ক্ষতি বেশি।’ এখন পর্যন্ত জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় নদী তীরবর্তী অন্তত আট শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে।
ফুলছড়ির দক্ষিণ রসুলপুর ও সুন্দরগঞ্জের লাল চামার কেরানীরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা গেছে। মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি। কাপাসিয়া ইউনিয়নেই দুই শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙনশঙ্কায় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও গাছপালা কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক চান্দু মিয়া ও সাহেব উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চোখের সামনে জমি, ফলের গাছ ও বাঁশঝাড় নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। সরকারি লোকেরা শুধু এসে আশ্বাস দেয়। কিন্তু কাজ করে না।’ বাসিন্দা নুরী আকতারের দাবি, এখনই দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা না হলে তাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুকনো মৌসুমে দক্ষিণ রসুলপুরের পাশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে মিলত জীবননাশের হুমকি। তারই খেসারত দিতে হচ্ছে এখন। ভাঙনরোধে দ্রুত জিও ব্যাগ বা ব্লক ডাম্পিংয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পানি দীর্ঘমেয়াদে হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে ভাঙন বেশি হচ্ছে। যেসব এলাকায় ভাঙন তীব্র, সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে তা রোধ করার চেষ্টা চলছে।’


