চীনে প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে তাইওয়ান ও চীনের পূর্ব উপকূল আরেকটি ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হচ্ছে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীন সরকার বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, মৃতদের বেশির ভাগই হেংঝৌ এলাকার বাসিন্দা। সেখানে একটি জলাধারের বাঁধ আংশিকভাবে ধসে পড়ার পর প্রবল স্রোতের পানি শহরে ঢুকে পড়ে ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। হেংঝৌ এলাকার প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছে নাননিং শহর।
শহরটির উপমেয়র ডিং ওয়েই এক সংবাদ সম্মেলনে জানান বৃহত্তর গুয়াংসি অঞ্চলে এখনো নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, দক্ষিণ চীনে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় মাইসাক আঘাত হানায় গত শনিবার থেকে গুয়াংসিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাঁধ উপচে পড়ে এবং বহু মানুষ কয়েক দিন ধরে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ভবনে আটকা পড়েন। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্যা ও ঝড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ছয়জন।
এদিকে চীনের উপকূলে দ্বিতীয় ঝড় বাভি এখন সাগরে অবস্থান করছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি তাইওয়ানের সামান্য উত্তর দিক দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। এতে দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষের দ্বীপটিতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এরপর আগামী শনিবার ঝড়টি ঝেজিয়াং অথবা ফুজিয়ান প্রদেশে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।
দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, কিছু এলাকায় মোট বৃষ্টি হয়েছে ১০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ চার থেকে ১৬ ইঞ্চি। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পরিমাণ ৯০ সেন্টিমিটার বা ৩৫ ইঞ্চির বেশি ছাড়িয়েছে।
হেংঝৌর উত্তর-পূর্বে গুইগাং শহরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আটকা পড়া ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে উদ্ধারে বৃহস্পতিবার সকালেও অভিযান চালায় উদ্ধারকারী দলগুলো।

বন্যার পানিতে কেবল মানুষই নয়, আটকা পড়েছে হাজারও প্রাণী। তীব্র স্রোতে কুকুর, বেড়াল, শূকরসহ অনেক পোষা প্রাণীও ভেসে গেছে।
গুইগাংয়ের একটি চিড়িয়াখানা জানিয়েছে, তাদের শতাধিক প্রাণী নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি জেব্রা, চারটি সজারু এবং কয়েক ডজন পাখি।
হেংঝৌতে একটি খামার থেকে বেশকিছু বিষধর সাপ বেরিয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য বিষপ্রতিরোধী ওষুধ মজুত করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সাপের মুখোমুখি হলে কী করতে হবে, সে বিষয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
বন্যায় আটকা পড়া মানুষের কাছে পৌঁছাতে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। এতে চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন) এবং প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০টি নৌযান ব্যবহার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা প্রবল স্রোত ও ভাসমান ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে লড়াই করে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ডিং ওয়েই বলেছেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে আগামী দুই দিনে কিছু এলাকায় আরও বৃষ্টি হতে পারে। হেংঝৌর কয়েকটি শহরে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে এবং জীবাণুনাশক ছিটাতে কর্মী পাঠানো হয়েছে। সড়ক মেরামতের কাজ চলছে এবং ৬০ হাজারের বেশি ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।


