বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন শেষ হলেও তা ঘিরে আলোচনা ও বিতর্ক থামেনি। নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে বিজয়ী হওয়া শিবা শানু এবার পরাজিত প্রার্থী রোজিনা ও পলির তোলা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন।
নির্বাচনের পর অভিনেত্রী রোজিনা অভিযোগ করেন, তাকে আবেগের জায়গা থেকে অনুরোধ করে জয় চৌধুরীর প্যানেলে রাখা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি অসম্মানিত হয়েছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর পর যেন তার মরদেহ এফডিসিতে না নেওয়া হয়। তবে সরকারি কোনো অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেলে তিনি এফডিসিতে যাবেন।
অন্যদিকে অভিনেত্রী পলি নির্বাচনে চাঁদাবাজি, অর্থ লেনদেন এবং কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
এসব অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা শানু বলেন, নির্বাচনে হারলে যে কোনো প্রার্থীর মন খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক। পরাজয়ের কষ্টের মধ্যে অনেক সময় চারপাশের বিভিন্ন কথাও প্রভাব ফেলে।
তিনি বলেন, “আমি শিল্পী সমিতিকে সবাইকে নিয়ে পরিচালনা করতে চাই। যারা নির্বাচিত হননি, তারাও সমিতির বিভিন্ন উপকমিটির মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাবেন। শিল্পীদের কল্যাণে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।”
অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে শিবা শানু বলেন, “হেরে যাওয়ার কষ্ট ও সন্দেহ থেকেই হয়তো তারা এসব কথা বলছেন। আমি বিশ্বাস করি, খুব শিগগিরই এসব ভুল ধারণার অবসান হবে। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব এবং তারা কী বলতে চান, সেটিও শুনব। টাকা ছড়ানোর বিষয়ে আমি কোনোভাবেই অবগত নই।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবভিত্তিক কিছু কনটেন্ট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। শিবা শানুর ভাষ্য, কিছু ইউটিউব চ্যানেল অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করে ভিউ বাড়ানোর চেষ্টা করে, যা শিল্পীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে।
তিনি বলেন, মূলধারার সংবাদমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে এসব বিভ্রান্তি এড়িয়ে শিল্পী সমিতির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।


