গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি না মানলে শেখ হাসিনার পথেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ১১-দলীয় জোটের নেতারা।
শনিবার বিকালে ময়মনসিংহ নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে ১১-দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে এমন মন্তব্য করেন তারা।
বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর না করলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চলবে। দাবি না মেনে বিএনপি যদি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ৭০ ভাগ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করে, তাহলে যে পথে গেছে শেখ হাসিনা, সে পথেই যাবে তারেক জিয়া।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষের ইচ্ছার শান্তিপুর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
মামুনুল হক বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণের অধিকার রক্ষায় রাজপথে আন্দোলন চলবে। তিনি আরও বলেন, ‘যদি বিএনপি ও তারেক জিয়া জনগণের ভোটাধিকার হরণ বা সংস্কার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে, তাহলে তারা ইতিহাসের কঠিন পথেই যাবে, যে পথে অতীতে স্বৈরাচাররা গেছে।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং জনগণের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদে দলীয়মুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য সংস্কার করেছিলাম। এখন বিএনপি মানছে না। এই সনদ কার্যকর হলে যেই ক্ষমতায় যেত, সে আর শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচার হতে পারত না।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর না করে, সংবিধান সংশোধন না করে বিএনপি দলীয়করণ শুরু করেছে। বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এখন সবার আগে বিএনপিতে পরিণত হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, ‘গুম, খুনসহ জুলাই গণহত্যার বিচারের কোনো অগ্রগতি নেই।’
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার নিয়ে কোনো সুখবর নেই। চীন থেকে কিছুই পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যর্থতার প্রমাণ দিলেন এটা দেশের মানুষ দেখেছে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার, বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। সরকার জনগণবিরোধী অবস্থান নিলে বিরোধী দল হিসেবে আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল, মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, হেদায়েতুল্লাহ হাদীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।


