‘জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে’

‘জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে’
Advertisement
Advertisement

দেশে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ)।

তিনি বলেন, নারী ও তরুণদের মধ্যে সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং ধর্মের সঠিক চর্চা নিশ্চিত করতে ধর্মীয় নেতা, ইমাম, খতিব ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

ধর্মমন্ত্রী জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (অষ্টম পর্যায়)’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবে শিক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে বর্তমানে সারা দেশে ৭ হাজার ৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। পুরোহিত ও মন্দির পরিচর্যাকারীদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের ষষ্ঠ পর্যায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।

আরও পড়ুন

গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে কর্মরত ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সরকারের কাছে নেই। তবে ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি মসজিদ রয়েছে। সে হিসাবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সম্মিলিত সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ জন হতে পারে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বর্তমানে ১২ হাজার ৮১০ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকরা বর্তমানে মাসিক ৬ হাজার টাকা সম্মানী পাচ্ছেন। ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে তা ধাপে ধাপে ৭ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হবে।

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩৪২টি মডেল মসজিদের নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং ১৮৬টির কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট কাজ ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে সরকার।

আরেক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, নিবন্ধন, আদালতের কার্যক্রম ও জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ দখলে থাকা ওয়াক্ফ সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে ১৫১ দশমিক ১৭৯৫ একর ওয়াক্ফ জমি উদ্ধারের কার্যক্রম চলেছে। তবে তালিকাভুক্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবোত্তর সম্পত্তির প্রকৃত উদ্ধারকৃত পরিমাণ সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad