নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা সড়কের দুই পাশে অন্তত এক কিলোমিটার জুড়ে সাদা কাপড়ে কালো রঙে আরবি হরফে কালিমা লেখা সারি সারি পতাকা টানোনো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে সংযোগ সড়কের শিবু মার্কেট থেকে জালকুড়ি পর্যন্ত ওভারপাস, বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে এমন পতাকা উড়তে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু মাদ্রাসার ছাত্র বুধবার রাতে এসব পতাকা সড়কটিতে টানিয়েছেন। তবে এমন পতাকা টানানোর কারণ বলতে পারেননি তারা।
সড়কের পাশের এক চা দোকানি আব্দুর রহমান বলেন, গতকাল রাত ৯টার থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কিছু মাদ্রাসাছাত্র এসব পতাকা লাগিয়ে গেছেন। কেন লাগাচ্ছেন তা জানি না।
প্রাইভেট কার চালক মো. রায়হান বলেন, ‘আমি মূলত গত শুক্রবার থেকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে এই পতাকাগুলো দেখতে পাচ্ছি। রাস্তায় চলাচলের সময় বিশেষ করে ফ্লাইওভারের নিচে, ওপরে এবং ফ্লাইওভারের পিলারের সঙ্গে এসব পতাকা লাগানো রয়েছে। অনেকে বলছেন এগুলো কালিমার পতাকা হতে পারে। সাদা ব্যানারের মধ্যে কালিমা লেখা রয়েছে এমনটাই দেখা যাচ্ছে। তবে কী উদ্দেশ্যে বা কারা এগুলো লাগিয়েছে, সে বিষয়ে আমি জানি না।’
এদিকে, বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এসব পতাকা লাগানোর সময়ে ধারণ করা একটি ভিডিওতে এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলতে শোনা যায়, এ সড়কটির শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও ভূঁইগড় এলাকায় তারা এ ধরনের পতাকা লাগিয়েছেন।
ওই তরুণ ভিডিওতে দাবি করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও কালিমা খচিত কিছু পতাকা লাগানো হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো সরিয়ে ফেলায় প্রতিবাদ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সড়কেও তারা এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১৫০০ পতাকা লাগানোর পরিকল্পনা তাদের রয়েছে বলেও জানান।
তবে, ভিডিওতে কথা বলা ওই তরুণের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা চলমান থাকায় বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দেশের পতাকা টানানোর বিষয়টি দেখা যাচ্ছে। তবে সাদা কাপড়ে কালিমা লেখা পতাকা লাগানোর বিষয়টি তাদের নজরে আগে আসেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং কারা ও কী উদ্দেশ্যে এগুলো লাগিয়েছে, তা জানার চেষ্টা করা হবে।’
এদিকে আমাদের সাভার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, একই চিত্র দেখা গেছে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে সিংগাইয়ের শহীদ রফিক সেতু পর্যন্ত সড়কে।


