ঈদগাহে ড্রামভর্তি মরদেহ: বন্ধু জরেজ গ্রেপ্তার

ঈদগাহে ড্রামভর্তি মরদেহ: বন্ধু জরেজ গ্রেপ্তার
নিহত আশরাফুল হক। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ঢাকার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে দুটি নীল ড্রাম থেকে কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ খণ্ডে বিভক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার বন্ধু জরেজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

এদিন হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার সন্দেহে জরেজের প্রেমিকা শামীমাকে ঢাকার একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তার কাছ থেকে হত্যার বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে, নিহত আশরাফুলের বোন আনজিরা বেগম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। মামলায় জরেজকে প্রধান আসামি করা হয়, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, ‘হত্যার মোটিভ এখনো পরিষ্কার নয়। সিসিটিভি ফুটেজ, কললিস্ট, আশপাশের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে।’

আরও পড়ুন

নিহতের পরিবার জানিয়েছে, রংপুর জেলার বদরগঞ্জে স্ত্রী লাকি বেগম ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন আশরাফুল হক। তিনিও এবং তার বড় ভাই কাঁচামাল সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে আশরাফুল তার বন্ধু জরেজ মিয়ার সঙ্গে ঢাকা আসেন, নারায়ণগঞ্জে পাওনা টাকা আনতে। পরদিন সকালে থেকে স্ত্রী লাকি তার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন ধরতেন জরেজ। তিনি দাবি করতেন, ‘আশরাফুল বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত, এজন্য ফোনটি আমার কাছে।’ এরপর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ থানা থেকে আশরাফুলের স্ত্রী জানতে পারেন ঢাকায় ড্রামভর্তি মরদেহ উদ্ধারের খবর। সেই মরদেহ তার স্বামীর কিনা খোঁজ নিতে বলা হয়।

নিহতের বোন আনজিরা বেগম জানান, তিনি বাড্ডায় থাকেন, শুক্রবার ফেসবুকে ভাইয়ের ছবি দেখে দ্রুত শাহবাগ থানায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি মরদেহ শনাক্ত করেন। তার অভিযোগ, ‘জরেজকে ধরলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

স্বজনদের সন্দেহ, জরেজ মিয়া এবং অজ্ঞাত সহযোগীরা ১১ নভেম্বর রাত থেকে ১৩ নভেম্বর রাতের মধ্যে যে কোনো সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আশরাফুলকে হত্যা করেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ২৬ টুকরো করে দুটি নীল ড্রামে ভরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে দুটি নীল ড্রাম পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেন। এরপর ড্রাম খুলে পুলিশ টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত ও শনাক্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, সেটি আশরাফুল হকের দেহ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad