নতুন অর্থবছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হয় এই বরাদ্দ থেকে।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন, সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৪৬০ কোটি ৯ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
পুলিশ সদরদপ্তরে কর্মরত ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার চারজন কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার যাবতীয় কেনাকাটা উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে হয়ে থাকে। এতে ঘাটতি পড়লে সম্পূরক বরাদ্দ থেকে তা পূরণ করা হয়।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মুহাম্মদ নুরুল হুদা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার ওপর যে খরচ করা হয়, তা আসলে বিনিয়োগ। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ট্রেনিং, যন্ত্রপাতি কেনা, সক্ষমতা বাড়ানোসহ অনেক কাজে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে ব্যয় হয়ে থাকে।’
তার মতে, এবারের বাজেটে এই বরাদ্দ দ্বিগুণ করা তার দৃষ্টিতে একটি ‘ইঙ্গিত’ যে সরকার বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে।
‘আগে এভাবে কখনো এই বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়নি। এটা ভালো লক্ষণ’- বলেন তিনি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া পুলিশ বাহিনীকে তার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অভ্যুত্থানে পুলিশের গাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে, খোয়া গেছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। এগুলো কেনার চাপ যেমন আছে, তেমনি বাহিনীর সদস্যদের নানা দাবিও রয়েছে।
গত মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পুলিশের পক্ষ থেকে নানা দাবি তুলে ধরা হয়। তিনি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও অনেক দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এ কারণে অনেক অর্থের প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যয়ে প্রধান খাতগুলো হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর মধ্যে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ডের জন্য আধুনিক অস্ত্র, জলযান, যানবাহন ও প্রযুক্তি কেনা হয়ে থাকে।
অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে আছে নতুন থানা, ফাঁড়ি, ব্যারাক, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ এবং বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) স্থাপন বা সংস্কার।
ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়নের ব্যয়ও এই খাত থেকে মেটানো হয়। এই বাহিনীর জন্য আধুনিক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম ও গাড়ি সংগ্রহ এবং নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণের চাহিদা সব সময় থাকে।
কারাগার উন্নয়নেও এই বরাদ্দ থেকে ব্যয় হয়ে থাকে। এর মধ্যে বন্দীদের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভবন সংস্কার ও প্রয়োজনে নির্মাণ, নিরাপত্তা জোরদার এবং সংশোধনাগারের আধুনিকায়ন করা উল্লেখযোগ্য।
পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের আওতায় ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও অভিবাসন প্রক্রিয়া ডিজিটাইজেশনের প্রকল্পে বরাদ্দকৃত বাজেট থেকে ব্যয় হয়ে থাকে।


