ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলার রায়ে সন্তোষ জানিয়েছেন তার বাবা। আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। একইসঙ্গে তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।
রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও তথ্য প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা ও স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিন সকাল ১০ টা ২৭ মিনিটে মেয়ে হত্যার রায় সরাসরি শুনতে আদালতে উপস্থিত হন ভুক্তভোগী ওই শিশুর বাবা।
রায় শেষে তিনি বলেন, ‘আমি আলহামদুলিল্লাহ শতভাগ খুশি। এই রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্ক্ষা সেটা আমি পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ আমি শতভাগ আশাবাদী রায় দ্রুত কার্যকর হবে।’
‘আল্লাহর রহমত ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যে আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি। বিচারক, পুলিশ প্রশসন, সাংবাদিক ও দেশের আপামর জনতা যারা আমার ও আমার পরিবারের বিপদের সময়ে মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন সবার নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। অবশ্যই আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই’, যোগ করেন তিনি।
এর আগে রায় চলাকালে বেঞ্চে বসে অসুস্থ হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা। এ সময় তিনি অসুস্থতার কথা বললে বাইরে থেকে একটি চার্জার ফ্যান এনে বাতাস করা হয়। রায় চলাকালের পুরো সময় তিনি মাথা নিচু করে ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হয়। তখন স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। পরে রামিসার বাবা-মা ও অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। শিশুটির মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে রাখা ছিল।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় ২০ মে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।


