সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবে নারী বন্দীদের দ্রুত নিজেদের সংশোধন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
তিনি বলেছেন, ‘একজন বাবা-মায়ের পরিচয় সন্তানের ভবিষ্যৎ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তাই নিজের সন্তান, পরিবার ও প্রিয়জনদের মুখের দিকে তাকিয়ে ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’
সোমবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে বন্দীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মানবিক ও কল্যাণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে আয়োজিত এই পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক বন্দীদের জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা ও সংশোধনমূলক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক আশ্বাস দেন, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা মামলা বা আইনি জটিলতায় আটক থাকেন, তবে তাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘হাত ধোয়ার অভ্যাস ও বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পানিবাহিত ও কিডনি রোগের ঝুঁকি কমে।’
কিডনি রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি ভেজাল খাবারকে দায়ী করেন।
এর আগে, কারাগার পরিদর্শনকালে তিনি সন্তানসহ নারী বন্দীদের সেল, নিরাপত্তা এবং শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া তিনি কারা হাসপাতালের নারী ওয়ার্ড পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন।
বন্দীদের পরিচালিত নকশিকাঁথা সেলাই এবং বাঁশ-কাঠের নান্দনিক হস্তশিল্প সামগ্রী দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের প্রশিক্ষণ বন্দিদের আত্মনির্ভরশীল ও সমাজে পুনর্বাসনে সহায়ক হবে।’
জেলা প্রশাসক কারাগারের রান্নাঘর ও খাবারের মানও পরীক্ষা করেন এবং খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
পুরুষ বন্দীদের কারাকক্ষ ও সংশোধনাগার পরিদর্শন শেষে কারা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক।
সভায় বন্দিদের স্বজনদের সাক্ষাৎ সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে ‘অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বন্দীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সংকট নিরসনে ‘কাউন্সিলর’ নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক, জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও কারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


