ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় আছে কাফুরা রেলক্রসিং। জনগুরুত্বপূর্ণ এই ক্রসিংয়ে কোনো গেট বা গেটম্যান না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন হাজারো পথচারী ও যানবাহন চালক। এক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণ গেলেও রেল কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা আজও ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারির সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভুলতে পারেননি। সেদিন এই ক্রসিংয়েই একটি মাইক্রোবাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন। সেদিন ঢাকাগামী ট্রেন আসার সময় রেলক্রসিং-এ কোনো গেট না থাকায় মাইক্রোবাসটি লাইনের ওপর উঠে পড়ে। ট্রেনের ধাক্কায় প্রায় ৫০ গজ দূরে পুকুরে ছিটকে পড়ে মাইক্রোবাস।
ওই মর্মান্তিক ঘটনার পরও কাফুরা রেলক্রসিং-এ কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রেন আসার সময় সতর্ক করার মতো কোনো ব্যারিয়ার বা সংকেত এখানে নেই। স্থানীয় বাসিন্দা ওহিদুল ফকির জানান, প্রতিদিন প্রচণ্ড ভয় নিয়ে তাদের রাস্তা পার হতে হয়। ট্রেনের আসার কোনো সময়সূচি জানা না থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
অটোরিকশা চালক হামিদ শরীফ বলেন, হঠাৎ ট্রেন চলে এলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় তারা অল্পের জন্য বেঁচে যান।
নিরাপত্তার অভাবে স্থানীয়রাই এখন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। চা দোকানদার হেলাল বেপারি জানান, ট্রেন এলে তারা নিজেরাই রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন।
ঝালমুড়ি বিক্রেতা রফিক মোল্যা ও চটপটি বিক্রেতা হায়দার মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক মানুষ মারা গেলেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।
ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার প্রহলাদ বিশ্বাস জানান, গেটম্যান নিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি পুরোপুরি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার।
রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুব হাসান বলেন, সমাধানের জন্য পাকশীতে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন বিষয়টি যাচাই করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, এটি সম্ভবত অননুমোদিত রেলগেট হওয়ায় এখানে গেটম্যান নেই।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানিয়েছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


