প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রথম ছয় মাসে বাস্তবায়নযোগ্য কাজের অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন।
শপথ গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতিমূলক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি এবং প্রথম ছয় মাসে কী কাজ করা হবে, সেটি জনগণ দেখতে চায়। প্রথম ছয় মাসে কী কী কাজ করা সম্ভব, তার একটি সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে দলগতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে টিমওয়ার্ক। মন্ত্রণালয়ের প্রত্যেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে আমি আলাদাভাবে বসব।’
মন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, তার নিজ এলাকা প্রবাসী অধ্যুষিত এবং সেখানে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে কাজ করেন।
সভায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্রসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করার নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে করণীয় বিষয়গুলো নির্দিষ্টভাবে প্রস্তুত করতে হবে। সব কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোন কাজগুলো করা যাবে, তার অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে।
প্রবাসীদের কল্যাণ ও অধিকার সংরক্ষণে এ পর্যন্ত কতজনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, কোন দেশ ও কোন এলাকা থেকে তারা এসেছেন এবং কাদের কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে-তার বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার কেন বন্ধ রয়েছে, তা খুলতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং না নেওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে কী করা প্রয়োজন–এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশও দেন তিনি।
সভায় নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করার তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিদেশে কাজ করতে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। কারণ, অনেকেই গয়নাগাটি বা জমি বিক্রি করে বিদেশে যান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে। প্রবাসীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে এবং আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে বিমানবন্দরের সাপোর্ট বা হেল্প ডেস্ককে আরও কার্যকর করতে হবে।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব নেয়ামত উল্ল্যা ভূইয়াসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


