৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি: চট্টগ্রামে বড় সাজ্জাদের সহযোগী গ্রেপ্তার

৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি: চট্টগ্রামে বড় সাজ্জাদের সহযোগী গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী সনি গ্রেপ্তার। পুলিশের দেওয়া ছবি
Advertisement
Advertisement

‘ভিমরুলের বাসা দিয়ে খেলা শুরু হবে’—এমন হুমকি দিয়ে দুবাই প্রবাসীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাব্বির হোসেন সানিকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার  গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানার সাতবসু এলাকার সানি চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। বড় সাজ্জাদের নির্দেশনায় বিদেশ থেকে দেশে ফিরে কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব নেন। এ জন্য বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন সানি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও নজরদারির পর সিদ্ধিরগঞ্জে সানির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় পৃথক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি অডিও রেকর্ডও ডিবির হাতে এসেছে। সানির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা, তার সহযোগীদের পরিচয় এবং অপরাধী চক্রের সার্বিক কার্যক্রম উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার হামজা খা লেনের রুনা টাওয়ারে। ভবনটির মালিক মোহাম্মদ ইউসুফের দুই ছেলে প্রবাসে ব্যবসা করেন। ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে ভবনমালিকের বড় ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিদেশি একটি নম্বর থেকে একটি ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য উল্লেখ করে এক ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে প্রথমে পরিবারের যেকোনো একজনের গায়ে ভিমরুলের বাসা দিয়ে ‘খেলা’ শুরু করা হবে এবং পরে চাঁদার অঙ্ক বেড়ে এক কোটি টাকা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া ভয়েস বার্তায় ‘ভাইয়ের’ কাতারের নম্বরে যোগাযোগ করে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলা হয়। পরে চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা ওই ভবনের গেট লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি ছুড়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভবনমালিক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শওকত হৃদয় জানান, হামজারবাগের এই ঘটনার সঙ্গে হাটহাজারীতে ঘটে যাওয়া অপর একটি চাঁদাবাজির ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। গত ২৬ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে কয়েক দিন ধরে হুমকির পর নির্মাণাধীন ভবনের নিচে প্রকাশ্যে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করে হাটহাজারী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, এই মামলায় সানিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তার সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

চাঁদাবাজির পাশাপাশি একটি হত্যা মামলাতেও সানির সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ। গত ১ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার ফরেস্ট গেট এলাকায় শেখ মো. আজাদ (২৫) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতের বাবা নুরুল রশিদ তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সুফিয়ান কুতুবী জানান, আজাদ হত্যার সঙ্গে সানির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলমান থাকায় শনিবার জেলা পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠানোর পর রোববার এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad