রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৭) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে (২৩) ৪ দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
শনিবার উত্তরখান থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
৫ কারণ দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিহত কে এম তাহসিফ সাউরিকে ডেকে নিয়ে বাইরে যান সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ ভাসার খবর পায় পুলিশ।
পরে মরদেহের সুরতহাল তৈরির সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, নিহত তাহসিফকে নিয়ে সন্দিগ্ধ আসামি দীপ টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ নিহতকে তার সিনিয়র বড় ভাই বলে জানান। তবে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার জড়িত থাকার সন্দেহ করছে পুলিশ।
রিমান্ড আবেদনে হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, আলামত এবং নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণের জন্য দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে গুম করার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছ থেকে নৌ পুলিশ নিয়ে গেছে।


