কুড়িগ্রামে নিজের জীবন দিয়ে ৪০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ বাঁচানো হেলপার দুলালের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এসিআই মটরস।
শনিবার দুপুরে ভূরুঙ্গামারীতে দুলালের বাড়িতে যান কোম্পানির প্রতিনিধিরা। তারা নিহত দুলালের স্ত্রী মসলিমা খাতুন ও বড় ভাইয়ের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের টেরিটরি অফিসার ইসতিয়াক আহমেদ, প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ মেহেদী হাসান সজীব, কুড়িগ্রাম ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের অ্যাডমিন একরামুল হক ও রংপুর ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের মডারেটর আহমেদ রাহাত ।
গত ২৯ মে রাতে ভূরুঙ্গামারী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া আহসান পরিবহনের একটি বাস ধলেশ্বরী টোল প্লাজার কাছে ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারায়। চালক বাসটি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে যাত্রীদের বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নেন হেলপার দুলাল। তিনি বাস থেকে নেমে চাকার নিচে কাঠের গুঁড়ি ও ভারী বস্তু দিয়ে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বাসটি থামলেও চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুলাল। তবে তার আত্মত্যাগে রক্ষা পান বাসের ৪০ জন যাত্রী।
স্থানীয়রা জানান, দুলালের পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। দুই ভাইয়ের উপার্জনে সংসার চলতো। দুলালের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে দুলালের স্ত্রী মসলিমা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার ও আমার চিকিৎসা চলতো। প্রতি মাসে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। এখন সংসার কীভাবে চলবে, চিকিৎসার টাকা কোথা থেকে আসবে, এই চিন্তায় ঘুমাতে পারি না।’
ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের টেরিটরি অফিসার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘নিজের জীবন বাজি রেখে যাত্রীদের বাঁচানোর যে সাহসিকতা দুলাল দেখিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। তিনি মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে দুলালের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে।’


