দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা, শতভাগ বিভাগীর পদোন্নতি এবং চাকরির দশম ও ১৬তম বছরে উচ্চতর গ্রেড বাস্তবায়ন করে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।
এর মধ্যে এ সংক্রান্ত কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ৩০ নভেম্বর থেকে আবারও কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষক নেতারা।
এ ছাড়া, নিহত শিক্ষক ফাতেমা আক্তারকে পূর্ণ পেনশন দেওয়াসহ তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয় শিক্ষকদের আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের’ পক্ষ থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক আবুল কাশেম, মো. শামছুদ্দীন মাসুদ, কামরুন্নাহার লিপি, নিহত শিক্ষক ফাতেমার স্বামী ডি এম সোলাইমানসহ আরও অনেকে।
দশম গ্রেডসহ তিন দাবিতে গত ৭ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা। ৮ নভেম্বর শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচি পালন করতে যান তারা। এ সময় লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপে করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ শিক্ষককে আটক করা হয়।
৯ নভেম্বর আটক শিক্ষকদের ছেড়ে দিলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষক নেতারা। ১০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিবের সঙ্গেও বৈঠক হয় তাদের। শিক্ষকদের চাকরি ১৩তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় উভয় মন্ত্রণালয় থেকে। এরপর ১১ নভেম্বর থেকে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন শিক্ষকেরা।
৮ নভেম্বর সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলবের ‘ঝিনাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর সহকারী শিক্ষক ফাতেমা আক্তার। ১৬ নভেম্বর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি।


