নাম শুনে সিনেমার চরিত্র মনে হলেও ‘রাজাবাবু’ হচ্ছে এবারের টাঙ্গাইলের কোরবানির পশুর হাটের বিশেষ আকর্ষণ। প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি ওজনের, ১১ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট উঁচু এই গরুকে ঘিরে টাঙ্গাইলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুত করা গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৮ লাখ টাকা।
টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াবুচনা এলাকার মীর ছানোয়ার আলী এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি খামারের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এখন সাড়ে তিন বছর বয়সী হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের কালো রঙের ষাঁড় ‘রাজাবাবু’। বিশাল আকৃতি, শান্ত স্বভাব ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসের কারণে খামারিরা আদর করে এর নাম দিয়েছেন ‘রাজাবাবু’।
খামার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ শুধু একনজর ‘রাজাবাবু’কে দেখতে আসছেন। দূর থেকে দেখলে ছোটখাটো হাতির মতো মনে হয় গরুটিকে। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে পরিচর্যার প্রতিটি ধাপেই দেওয়া হয় বিশেষ যত্ন।
মীর ছানোয়ার আলী এগ্রো অ্যান্ড ডেইরির মালিক মীর সজিবুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে তার খামারের যাত্রা শুরু হয়। প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৩০ থেকে ৪০টি ষাঁড় গরু লালন-পালন করা হয়। এবার ‘রাজাবাবু’র পাশাপাশি ১৩ থেকে ১৫ মণ ওজনের আরও ১০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় একটি গর্ভবতী হলস্টেইন গাভী কেনেন। সেই গাভীর জন্ম দেওয়া ষাঁড় বাছুরটিই ‘রাজাবাবু’। জন্মের পর থেকেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে, কোনো কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ছাড়াই তাকে বড় করা হয়েছে।
তার ভাষায়, ‘একদিন বয়স থেকেই নিজের সন্তানের মতো লালন করেছি। ময়লা জায়গায় থাকতে চায় না, পরিষ্কার খাবার খায়, আচরণও রাজাদের মতো। তাই নাম রেখেছি ‘রাজাবাবু’।’
খামারির দাবি, গরুটিকে প্রতিদিন নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত ঘাস, খড়, ভুট্টা, গমসহ বিশেষ খাদ্য খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা, গোসল ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। গরম থেকে স্বস্তি দিতে গোয়ালঘরে ফ্যানও বসানো হয়েছে।
খামারের কর্মচারী সোহেল মিয়া জানান, খামারে ‘বাহাদুর’, ‘সম্রাট’ ও ‘সিম্বা’ নামের আরও কয়েকটি বড় গরু থাকলেও জনপ্রিয়তায় সবার ওপরে ‘রাজাবাবু’।
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, টাঙ্গাইলে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৬ হাজার ৭৫৯টি খামার রয়েছে। এসব খামারে কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন খান বলেন, জেলায় অনেক খামারিই প্রাকৃতিক উপায়ে বড় আকারের পশু লালন-পালন করছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ তাদের নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘রাজাবাবু’কে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা ও পরিচর্যায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, গরুটি বিক্রি করে খামারি ন্যায্যমূল্য পাবেন।


