চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ২৬টি পদের ২৪টিতেই জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’। আর এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৪৪ বছর পর চাকসুর নেতৃত্বে ফিরল ইসলামী ছাত্রশিবির।
বাকি দুটির মধ্যে একটিতে ছাত্রদল এবং অন্যটিতে বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী জয় পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে এই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
এর আগে ১৯৮১ সালের চাকসু নির্বাচনে সবশেষ জয়ী হয়েছিল শিবির প্যানেল। সেবার ভিপি নির্বাচিত হন জসিম উদ্দিন সরকার আর জিএস হন আবদুল গাফফার। এই দুজনই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের নেতা। এরপর ১৯৯০ সালের নির্বাচনে ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’র কাছে হেরে যায় শিবির প্যানেল। তবে নির্বাচনে না জিতলেও এরপর দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে ছিল শিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলে ক্যাম্পাসে বাড়ে ছাত্রলীগের আধিপত্য। শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের এই ক্যাম্পাসটিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ছিল মুখোমুখি অবস্থান। যদিও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিই হারায় জামায়াতের এই সহযোগী সংগঠনটি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির পর আবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে শিবির, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় শুরু হয় নানা কার্যক্রমও। এরই ধারাবাহিকতায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগবিহীন চাকসু নির্বাচনে বড় জয় পেল ছাত্রশিবির।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী ভিসি-জিএসসহ ২৪টি পদে জয় পেয়েছেন শিবির সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা। অন্যদিকে এজিএস পদে ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ও সহখেলাধুলা সম্পাদক পদেকরে বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী তামান্না মাহবুব স্মৃতি বিজয়ী হয়েছেন।
শিবির সমর্থিত প্যানেলের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন, ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব, খেলাধুলা সম্পাদক মোহাম্মদ শাওন; সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেজুল ইসলাম, সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ আহনাফ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত, ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা, সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস রিতা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন, সমাজসেবা ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক তাহসিনা রহমান, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আহনাফ হাসান ইমরান, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান, যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূইয়া, সহ-যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল সালমান, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বি তৌহিদ, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ।
এছাড়া পাঁচ কার্যনির্বাহী সদস্য পদে যথাক্রমে জয় পেয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস, আদনান শরীফ, আকাশ দাশ, সালমান ফারসি, মোহাম্মদ সোহানুর রহমান।


