২০ ঘণ্টা পর থানা থেকে ছাড়া পেলেন ৫ শিক্ষক

২০ ঘণ্টা পর থানা থেকে ছাড়া পেলেন ৫ শিক্ষক
শহীদ মিনারে অবস্থানরত শিক্ষকদের একাংশ। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

চাকরিতে দশম গ্রেডে বেতন-ভাতাসহ তিন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের কর্মসূচি থেকে আটক পাঁচ শিক্ষককে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর নেতারা আটক শিক্ষকদের থানা থেকে নিয়ে যান।

থানা থেকে ছাড়া পাওয়া শিক্ষকরা হলেন, প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের চার আহ্বায়কের অন্যতম মাহবুবুর রহমান এবং নূরুল ইসলাম লিটন, শরীফুল ইসলাম, আব্দুল কাদের ও সোহেল।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর টাইমস অব বাংলাদেশকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। আলোচনার মাধ্যমে আটক পাঁচ শিক্ষককে নিয়ে গেছেন। শনিবার বিকাল ৪টার পর শাহবাগ এলাকা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নাই।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষক নেতা জাকির হোসেন বলেন, ‘শামছুদ্দিন মাসুদ, আবুল কাশেমসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতারা শাহবাগ থানা থেকে বিনাশর্তে আটক পাঁচ শিক্ষককে ছাড়িয়ে এনেছেন। তারা এখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।’

শহীদ মিনারে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি চলছে। রোববার থেকে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি চাই না। কিন্তু শিক্ষকরা যেভাবে নিপীড়িত হয়েছেন তা অনাকাঙ্ক্ষিত। দাবি মেনে নিলে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবেন শিক্ষকরা।’

এর আগে, দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা, শতভাগ পদোন্নতি এবং চাকরির ১০ম ও ১৬তম বছরে উচ্চতর গ্রেডের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা। এদিন বিকাল সাড়ে তিনটায় শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচি করেন তারা।

আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিলে ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে শিক্ষকদের একাংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জল কামান নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এসময় ২০০ শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন শিক্ষক নেতারা। যাদের আঘাত বেশি গুরুতর, তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিরা শহীদ মিনারেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বিশ্রাম করেছেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক টাইমসকে বলেন, ‘অন্তত ১১০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিক্ষক, পুলিশ সদস্য, রিকশাচালক ও সাংবাদিক রয়েছেন।’

শিক্ষকদের ওপর হামলার বিষয়ে শনিবার বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (গণমাধ্যম) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শাহবাগে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad