সদ্য বিদায়ী বছরে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশের জন্য নতুন করে ২৫৭ কোটি ডলার ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যা আগের বছরের ১১৮ কোটি ডলারের দ্বিগুণেরও বেশি। সামনের দিনগুলোয় ধাপে ধাপে এই প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় হবে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার মধ্যে এসব প্রতিশ্রুতিকে বাংলাদেশের জন্য উন্নয়ন সহায়তা জোরদারের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানায়, এই অর্থায়ন জ্বালানি, পরিবহন, ব্যাংকিং সংস্কার, নগর সেবা, জলবায়ু সহনশীলতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং কক্সবাজারে জীবিকা ও সেবা উন্নয়নের মতো অগ্রাধিকার খাতে ব্যয় করা হবে।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জং বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর পর্বে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলোতে সহায়তার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হলো। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট দিন দিন আরও কঠিন হয়ে ওঠায় এই সহযোগিতা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।’
২০২৫ সালের সার্বভৌম ঋণ কর্মসূচিতে মোট ১০টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে মোট অর্থের প্রায় ৩৫ শতাংশ পরিবহন অবকাঠামো খাতে, ২৩ শতাংশ আর্থিক খাতে এবং ১৬ শতাংশ সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া জ্বালানি খাতে ১১ শতাংশ, পানি ও নগর উন্নয়নে ৯ শতাংশ এবং মানব ও সামাজিক উন্নয়নে ৬ শতাংশ অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলওয়ে উন্নয়ন প্রকল্প, যার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল করিডর আধুনিকায়ন হবে এবং ঢাকা থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ট্রেন চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে।
ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল ও সংস্কার করতে ‘ব্যাংকিং সেক্টর স্থিতিশীল ও সংস্কার কর্মসূচি’র প্রথম ধাপে ৫০ কোটি ডলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জোরদার, করপোরেট গভর্ন্যান্স উন্নয়ন, সম্পদের গুণগত মান বাড়ানো এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ‘জলবায়ু সহনশীল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কর্মসূচি’র দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪০ কোটি ডলার অনুমোদন দিয়েছে এডিবি।
এডিবি জানিয়েছে, উন্নত প্রকল্প প্রস্তুতি ও পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার কারণে ২০২৫ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি এসেছে। পাশাপাশি সার্বভৌম নয় এমন অর্থায়নের মাধ্যমে বস্ত্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য অর্থায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, ক্ষুদ্রঋণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বেসরকারি বিনিয়োগে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এডিবি মোট ৭২ কোটি ডলার সহ-অর্থায়ন সংগ্রহ করেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নীতিগত সহায়তা দিয়েছে।
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য এডিবির সার্বভৌম ও সার্বভৌম নয়—দুই ধরনের ঋণ প্রতিশ্রুতির মোট পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৪২০০ কোটি ডলার। বর্তমানে দেশে এডিবির ৪৮টি সক্রিয় সার্বভৌম প্রকল্প রয়েছে, যার মোট মূল্য ১০৮০ কোটি ডলার।
২০২৬ সালের দিকে তাকিয়ে এডিবি জানায়, অর্থনৈতিক করিডর উন্নয়ন, বহুমাত্রিক লজিস্টিকস জোরদার, সরকারি ও পুঁজিবাজার সংস্কার এগিয়ে নেওয়া, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করাই হবে তাদের মূল অগ্রাধিকার।


