ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, গত এক মাসে বাংলাদেশ থেকে আসা ৪ হাজার ৮০০ জন ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে’ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এদের কেউই ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় পড়েন না।
রোববার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি আয়োজিত ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান ২০২৬’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের কারাগারে না পাঠিয়ে সরাসরি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তর করা যায়। তার দাবি, অতীতে পশ্চিমবঙ্গে এ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।
তিনি জানান, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে ৮৩৬ জনকে রাখা হয়েছে এবং তাদেরও দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
এ সময় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে কিছু অনথিভুক্ত অভিবাসীর বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যাগত চিত্র পরিবর্তিত হয়েছে এবং তার সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ ও প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গত ২০ মে তিনি সরকারের নীতিকে “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য জমি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন নেক’ অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অংশে প্রায় ৫৫৬ কিলোমিটার এলাকা এখনও কাঁটাতারের বেড়াবিহীন রয়েছে।
তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই দাবির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


