দীর্ঘ ১৮ বছর পর তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আবারও ফিরে এসেছে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ। বৃহস্পতিবার জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সাথে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
পুরনো বিমানবন্দর এলাকায় সকাল ১০টায় এই কুচকাওয়াজ শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি উপভোগ করার জন্য সকাল থেকেই প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হন শিশু ও পরিবারসহ হাজার হাজার দর্শক।
নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও কুচকাওয়াজ অধিনায়ক মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হকের সাথে রাষ্ট্রপতি একটি খোলা জিপে চড়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। পরে তিনি তিন বাহিনীর প্রধানদের সাথে নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে প্যারেড গ্রাউন্ডে অভ্যর্থনা জানান।
আনুষ্ঠানিক অনুমতির পর বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট মার্চপাস্ট করে রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানায়। এতে অংশ নেয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, কোস্ট গার্ড, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি, বিএনসিসি, মুক্তিযোদ্ধা এবং সম্মিলিত নারী কন্টিনজেন্ট। এছাড়া প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, আর্মার্ড ও ইনফ্যান্ট্রি ফর্মেশনসহ সেনাবাহিনীর বিশেষ ইউনিট এবং ইস্ট বেঙ্গল ও এয়ার ডিফেন্স কন্টিনজেন্টগুলোও প্যারেডে অংশ নেয়।
কুচকাওয়াজে দেশের স্থল ও আকাশপথের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সুসমন্বিত প্রদর্শনী তুলে ধরা হয়। প্যারাসুট জাম্পাররা জাতীয় পতাকা নিয়ে অবতরণ করার পর বিমানবাহিনীর ফ্লাই-পাস্ট এবং মনোমুগ্ধকর অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়। বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট তাদের আধুনিক সরঞ্জাম ও সমরাস্ত্রও প্রদর্শন করে।
প্যারেড গ্রাউন্ডে সমবেত বিশাল জনতা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে কুচকাওয়াজ ও বিমানবাহিনীর এই কসরত উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী কন্টিনজেন্টগুলোর কমান্ডারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
এর আগে দিনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


