১৩৬ বছরের অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি: ৬শ’ বছরের দুর্লভ সংগ্রহ

১৩৬ বছরের অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি: ৬শ’ বছরের দুর্লভ সংগ্রহ
Advertisement
Advertisement

ছয় শতাধিক বছর আগের হাতের লেখা দুর্লভ তালপাতার পাণ্ডুলিপি, বাংলা, ইংরেজি, ফরাসি, হিন্দি, উর্দুসহ নানা ভাষার হাজারো বই। শত বছর আগের দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকী। প্রায় ৩৮ হাজার বইয়ে সমৃদ্ধ দেশের অন্যতম প্রাচীন পাবনার অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি।

নানা ঐতিহ্য আর ইতিহাস সংগ্রহের ধারক হয়ে মাথা উঁচু করে আজও দাঁড়িয়ে এই লাইব্রেরি। পাবনার সচেতন মানুষের আবেগ অনেকটাই আবর্তিত হয় এই লাইব্রেরিকে ঘিরে। কালের পরিক্রমায় ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরির বয়স ১৩৬ বছর।

এই লাইব্রেরির উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও ভাষার মাসে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী পুস্তক প্রদর্শনী। রোববার বিকালে জেলার প্রবীণ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান ফিতা কেটে এই পুস্তক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এই উপলক্ষ্যে অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সভা কক্ষে আয়োজন করা হয় এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান।

অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম রবির সভাপতিত্বে এবং অবৈতনিক মহাসচিব আব্দুল মতীন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর শিবাজিত নাগ, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান, বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ড. মুহম্মদ হাবিবুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা বেগম রোখসানা ডেইজি, জেলা কালচারাল অফিসার মারুফা মঞ্জরি খান সৌমি।

উল্লেখ্য, প্রাচীন পাবনা অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সংগ্রহে রয়েছে ৩৮ হাজারেরও বেশি বই। ১৭৫৮ সালে প্রকাশিত ‘দ্য সেইন্টস এভারলাস্টিং রেস্ট’বইটিই লাইব্রেরির সবচেয়ে পুরোনো সংগ্রহ। এ ছাড়া রয়েছে বাংলা সাহিত্য, ফারসি, উর্দু, আরবি, হিন্দি, বুলগেরিয়ান, নরওয়েজিয়ান, ইতালি, রুশ, তুর্কি, চায়না, ইরানি সাহিত্য ও পালি সাহিত্যের নানা বই। এর পাশাপাশি কয়েক হাজার পত্রিকা, জার্নাল, লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরির সংগ্রহে রয়েছে।

আরও পড়ুন

দেশ বিদেশ থেকে আসা জ্ঞানপিপাসু মানুষের কাছে আগ্রহের বিষয় অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সংগ্রহে থাকা প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো, হাতে লেখা বাংলা ও সংস্কৃত পুথি আর পাণ্ডুলিপিগুলো। তালপাতা আর কাগজে লেখা এসব পুঁথি ও পান্ডুলিপিগুলো সমৃদ্ধ করেছে অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরিকে।

প্রবীণ শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের লাইব্রেরি বাংলাদেশের অন্য কোথাও নেই। জ্ঞানপিপাসুদের জন্য এটা একটা দর্শনীয় এবং শিক্ষনীয় গ্রন্থাগার হতে পারে। সবার উচিত এই লাইব্রেরী পরিদর্শন করা।

অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির অবৈতনিক মহাসচিব আব্দুল মতীন খান জানান, এই উপমহাদেশের মধ্যে এই লাইব্রেরি একটি বড় সংগ্রহশালা। সংবাদপত্র, লিটল ম্যাগাজিন, সাময়িকী, সাপ্তাহিক, ৬শ’ বছরের পুরোনো তালপাতার পাণ্ডুলিপি রয়েছে শত শত বছরের পুরোনো বই ও পুস্তক। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এসব বই প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এই প্রদর্শনী শেষ হবে।

উল্লেখ্য, ১৮৯০ সালে পাবনার তাঁতিবন্দের জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা উপেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর বংশধর অন্নদা গোবিন্দ চৌধুরী শহরের আব্দুল হামিদ রোডে ১৩ শতাংশ জমির ওপর এই লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad