ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত আট সাবেক শিক্ষার্থী। যাদের অধিকাংশই জিতেছেন বিএনপির ব্যানারে।
এবার নির্বাচনে দেশের বেশ কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। যাদের মধ্যে আটজন চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলার বিভিন্ন আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। আর একজন বিজয়ী হয়েছেন নেত্রকোনা জেলার একটি আসন থেকে।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ আসনে ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে এমকম ডিগ্রি নেওয়া সাবেক শিক্ষার্থী লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
অবশ্য আপিল বিভাগে মামলা চলমান থাকায় নির্বাচন কমিশন এই আসনের ফলাফল বর্তমানে স্থগিত রেখেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি আসনে বিজয়ী হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়ে হারিয়েছেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমাকে।
ওয়াদুদ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী।
কক্সবাজার-২ অর্থাৎ মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীই ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। তিনি ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও আইন অনুষদের সাবেক শিক্ষার্থী জামায়াত মনোনীত হামিদুর রহমান আযাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৮১৭ ভোট।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে জয় পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
ফেনী সদর বা ফেনী-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুজন প্রার্থীই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জয়নাল আবদীন পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির সভাপতি ও শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু পেয়েছেন ৮০ হাজার ০৫৮ ভোট। তিনি ছিলেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
এছাড়াও লক্ষ্মীপুরের দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুেই শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে জয় পেয়েছেন চবির সাবেক শিক্ষার্থী ও বিএনপি প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে চবির দর্শন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিএনপি প্রার্থী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
অন্যদিকে নেত্রকোনা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে চবি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সাবেক ২৭ জন নেতাসহ মোট ২৮জন প্রার্থী হয়েছিলেন।
বিজয়ীদের মধ্যে ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী চবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে হামিদুর রহমান আযাদ, জসিম উদ্দিন সরকার, আলাউদ্দিন শিকদার ও মজিবুর রহমান মঞ্জু শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
জসিম উদ্দিন সরকার একইসঙ্গে ১৯৮১ সালে চাকসুর ভিপি ও মজিবুর রহমান মঞ্জু ২০০৩ সালে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
জামায়াত জোটের দাঁড়িপাল্লা ও অন্য প্রতীকে নির্বাচন করা চবির সাবেক ১৮ প্রার্থী হলেন- ড. হামিদুর রহমান আযাদ (কক্সবাজার-২), অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার (ঢাকা-১০), মজিবুর রহমান মঞ্জু, (ফেনী-২, ঈগল প্রতীক), মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার (চট্টগ্রাম-৩), অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান (চট্টগ্রাম-১), কাজী দ্বীন মোহাম্মদ (কুমিল্লা-৬), অধ্যক্ষ নুরুল আমিন (চট্টগ্রাম-২), অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী (চট্টগ্রাম-১০) ও ড. ফয়জুল হক (ঝালকাঠি-১)।
অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান (চট্টগ্রাম-১৩), শফিউল আলম (চট্টগ্রাম-১১), একে করিম (চট্টগ্রাম–০২, ফুটবল প্রতীক), অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন (ফেনী-১), ড. সৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী (কুমিল্লা-৯), অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী (খাগড়াছড়ি-২৯৮), অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০১) ও জয়নুল আবেদীন (সিলেট-৪)।
এছাড়া চট্টগ্রাম-৮ আসনে শাপলা-কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন চবির সদ্য সাবেক শিক্ষার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ।


