১২ দফা দাবিতে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিকদের সমাবেশ

১২ দফা দাবিতে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিকদের সমাবেশ
Advertisement
Advertisement

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিআরটিএ লাইসেন্স ও রুট পারমিট, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধসহ ১২ দফা দাবিতে সমাবেশ করেছেন রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক শ্রমিকেরা।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা ১২ দফা বাস্তবায়ন, বিআরটিএর মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স ও রুট পারমিট, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং শ্রমিকদের হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘অটোওয়ালাদেরকে আর চ্যাতায়েন না। অটোরিকশা উচ্ছেদ করে ঢাকা শহরকে বড়লোকের শহর বানানোর চেষ্টা আমরা মেনে নেব না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অটোরিকশা চালাই পেটের দায়ে। আমাদের লাইসেন্স দেন, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেন। নিয়মের মধ্য নিয়ে আসেন। কিন্তু উচ্ছেদ করে দিলে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা বন্ধ হয়ে যাবে।’

নুরুজ্জামান আরও বলেন, ‘গ্যারেজ মালিকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। বৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। আমরা সরকারের কাছে সমাধান চাই, সংঘাত চাই না।’

আরও পড়ুন

সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফি রতন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর ডিএমপি কমিশনারের কাছে দাবি ছিল প্রতিটি অটোরিকশার লাইসেন্স দিতে হবে। কার্ডের নামে যে চাঁদাবাজি হয়, সেটাও বন্ধ করতে হবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আগে কামরাঙ্গীরচরে একজন রিকশাচালকের কাছ থেকে মাসে ৩ হাজার টাকা করে বছরে একজন শ্রমিককে ৩৬ হাজার টাকা দিতে হতো। সরকার যদি রিকশাপ্রতি বছরে ১ হাজার টাকা লাইসেন্স ফি নেয়, তাহলে ৫০ লাখ রিকশা থেকেই বছরে ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারে।’

রিকশাশ্রমিকদের কর না দেওয়ার সমালোচনার প্রসঙ্গে কাফি রতন বলেন, ‘রিকশাশ্রমিকেরা আয়কর দেওয়ার মতো আয় করেন না। কিন্তু গরিব মানুষরা যখন পণ্য বা সেবা কেনেন, তখন তো ভ্যাট দেয়।’

সংগঠনটির সভাপতি আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘শ্রমিকের যে শক্তি, শ্রমিক বুঝে না। আমরা যদি নিজেদের অধিকার বুঝতাম, তাহলে আমাদের দাবি নিয়ে এত দিন ঘুরতে হতো না।’

তিনি বলেন, ‘যে মানুষটা রিকশা চালায়, ভ্যান চালায়, ইজিবাইক চালায়—তার ঘামের ওপর এই শহর চলে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সেই মানুষটার কথা মনে রাখা হয় না।’

কুদ্দুসের ভাষায়, ‘গরিব মানুষের জীবনযাত্রা, তার সংসার, তার রোজগার—এসব বিবেচনায় নিয়েই নীতি করতে হবে। আমরা কারও দয়া চাই না, আমরা আমাদের অধিকার চাই।’

শ্রমিকদের ১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স ও রুট পারমিট, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, চলাচলের জন্য যৌক্তিক নীতিমালা, চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ, চার্জিং স্টেশন ও সার্ভিস লেন নির্মাণ এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে গণপরিবহন ও শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। এছাড়াও রয়েছে শ্রমিকদের জীবিকা সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের দাবি।

উল্লেখ্য, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ১২ দফা দাবির কর্মসূচি পালন করে আসছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহন বন্ধে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর ২৫ নভেম্বর ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ পায় সংগঠনটি। এরপর লাইসেন্স, রুট পারমিটসহ ১২ দফা বাস্তবায়নের দাবি অব্যাহত রাখে তারা। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত মতবিনিময় সভায়ও দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad