হেফাজতে মৃত্যু, গুম রোধে বিধান রেখে এনএইচআরসি আইনের অনুমোদন

হেফাজতে মৃত্যু, গুম রোধে বিধান রেখে এনএইচআরসি আইনের অনুমোদন
Advertisement
Advertisement

জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল অনুযায়ী হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু বা গুম রোধে একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে এই খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনের নতুন খসড়ায় কমিশন গঠন এবং কমিশনের মেয়াদ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতিসংঘের ‘নির্যাতন বিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল’ (ওপিসিএটি) অনুযায়ী হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু বা গুম রোধে একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা (এপিএম) ইউনিট গঠনের বিধান এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, একজন চেয়ারপারসন ও চারজন কমিশনারের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হবে, যেখানে কমপক্ষে একজন নারী কমিশনার রাখার বিধান করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটির সুপারিশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাছাই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাগরিক প্রতিনিধি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কমিশনের কার্যপরিধি সুস্পষ্ট করার পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থাকেও সহজ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কার্যকর তদন্ত ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বা ক্ষতি রোধে কমিশনকে এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশদানের ক্ষমতার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গীকার এবং মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণ রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাসহ মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন, সনদ এবং এ সংক্রান্ত চুক্তিসমূহ পরিপালন করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং নিশ্চিতকরণের জন্য একটি কার্যকর ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন করা আবশ্যক বলে সরকার মনে করে এবং তারই পরিপ্রেক্ষিতে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণীত হয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ার পাশাপাশি বিদেশিদের বাংলাদেশে আসা-যাওয়া সহজ ও সুশৃঙ্খল করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন ভিসা পলিসির অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন’-এর খসড়ারও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad