দুর্বল শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূতকরণের সরকারি উদ্যোগকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক একীভূতকারণের অধিকার অন্তর্বর্তী সরকারের আছে কিনা, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘হু ইজ দিস গভর্নমেন্ট? ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট আসুক, তখন তাদের সঙ্গে আমরা ফাইট করব।’
ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রেজাউল হক অভিযোগ করেন, তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আবেদিন তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন।
তার দাবি, সেসময় সাইফুল আবেদিন জানিয়েছিলেন যে এই নির্দেশ তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার কাছ থেকে পেয়েছেন।
একীভূতকরণের বিরুদ্ধে রিট করেছেন এবং সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল দিয়েছে জানিয়ে সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘ব্যাংকগুলো একীভূত করতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রথমে আপিল বিভাগ থেকে রায় এনে দিতে হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় যে ব্যাংকগুলোর নাম রয়েছে সেগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও এসআইবিএল।
এস আলম গ্রুপের অনিয়মে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণ ৭৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একীভূতকরণ পরিকল্পনায় পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে মিলিয়ে একটি বৃহৎ ব্যাংক গড়া হবে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন হবে ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২০ হাজার ২০০ কোটি, সাড়ে সাত হাজার কোটি আসবে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে, আর বাকিটা সংগ্রহ করা হবে প্রাতিষ্ঠানিক আমানত শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে।
এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫’–এর কয়েকটি ধারা কেন অসাংবিধানিক হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।
আদালতের রুল প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘মার্জার নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুধু উদ্যোক্তাই নয়, আমানতকারীরাও মামলা করতে পারেন। সরকার স্পষ্ট করেছে—আইনি লড়াই বাংলাদেশ ব্যাংককেই সামলাতে হবে, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত হবে না।’
উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত মূলধন দিতে পারলে সরকার জোর করে একীভূত করবে না বলেও জানােন তিনি।
তবে সংবাদ সম্মেলনে সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘এসআইবিএল ঠিক করতে যত টাকাই লাগুক বাংলাদেশ ব্যাংককে দিতে হবে। আমরা ব্যবসা করে টাকা ফেরত দেবো।’
‘আমাদের নিজেদের টাকায় এই ব্যাংক গড়া হয়েছে, বাইরের কারও টাকায় নয়। গভর্নর কিছু করেননি, অথচ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন— এতে কী সমাধান হবে?’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ ফিরলে ব্যাংকে “টাকার জোয়ার” আসবে।’
ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিদেশি ও দেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যাংকে বিনিয়োগে আগ্রহী বলে এসময় জানান রেজাউল হক। তিনি বলেন, দুই দিন আগে বৈঠকে আইডিবি থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার আনার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ব্যাংকটির সাবেক পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা প্রবাসীদের টাকায় ব্যাংক দাঁড় করিয়েছিলাম। বিগত সরকার জোর করে ব্যাংক ছিনিয়ে নিয়েছে। এখন আবার আমরা সব হারানোর মুখে।’


