দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও এই রোগের উপসর্গে আরও ১১ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ২ শিশু নিশ্চিত হাম রোগী এবং অপর ৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ নিশ্চিত হয়েছে ১ হাজার ৩৩৭ জনের। এর মধ্যে ১ হাজার ২৬৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ও নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৩ জন।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৫৮৬ জনে। এ ছাড়া ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৯২৯ জন।
এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত ৪৩ হাজার ৯৮৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪০ হাজার ৯০ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি দেশে সন্দেহজনক হাম রোগে মোট ৩৯৮ জন এবং নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগীয় তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের মধ্যে ঢাকা বিভাগে হামের প্রকোপ ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই অ্যান্ড সার্ভিল্যান্স শাখার অধীনে দেশজুড়ে ‘জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬’ পরিচালিত হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, দেশব্যাপী মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যার বিপরীতে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৩ লাখ ১৩ হাজার ৩৩ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১০২% কাভারেজ অর্জন করেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৩৯ হাজার ৭৩৪ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০৩% কাভারেজ অর্জিত হয়েছে রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ৯৯% কাভারেজ অর্জিত হয়েছে সিলেট বিভাগে।
দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে টিকাদানের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন। এর বিপরীতে এ পর্যন্ত ১৯ লাখ ৭৮ হাজার ২৪৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে ১০৪% কাভারেজ নিশ্চিত করেছে।
সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাভারেজ অর্জিত হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে (১১০%) এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনে (১০৮%)। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০৬%, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১০২% এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ১০৩% কাভারেজ অর্জিত হয়েছে। তবে রংপুর সিটি করপোরেশনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম অর্থাৎ ৯৮% কাভারেজ অর্জিত হয়েছে।


