সারা দেশে হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে রয়েছেন। তবে এ সময়ে কোনো নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪৯৮ জনের সন্দেহজনকভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে মোট ৯০ জনের মৃত্যু হামজনিত বলে নিশ্চিত হয়েছে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৩৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৪৫ জনের হাম রোগ নিশ্চিত হয়েছে এবং ৪৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৩১ মে সকাল ৮টা থেকে ১ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৭০ জনে। একই সময়ে মোট ৯ হাজার ৯৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৭ হাজার ৯০২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭২২ জন রোগী।
বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৫০০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ১৯২ জন, বরিশালে ১২৯ জন, সিলেটে ৭৯ জন এবং খুলনায় ৭৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে, জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬-এর অগ্রগতির তথ্যও প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এতে দেখা যায়, সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৬৫৯ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০২ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক টিকাদানে সর্বোচ্চ ১০৩ শতাংশ কভারেজ অর্জন করেছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে কভারেজ ৯৯ শতাংশ।
সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৩ শতাংশ কভারেজ অর্জন করেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১০৯ শতাংশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ১০৭ শতাংশ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১০৩ শতাংশ কভারেজ অর্জিত হয়েছে।


